নিউজ পোল ব্যুরো: সিপিএমের (CPIM) রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় অস্থিরতা। দলটির রাজ্য কমিটি থেকে ইস্তফা দিলেন প্রতীক-উর-রহমান (Pratika Ur Rahman)। একই সঙ্গে তিনি সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করেছেন। প্রাক্তন এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রতীক-উর ইতিমধ্যেই লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন Communist Party of India (Marxist)-এর কাছে। তাঁর ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা ও চাপানউতোর। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। ভোটের মুখে এমন সিদ্ধান্ত কেন এই প্রশ্ন উঠতেই প্রতীক-উর স্পষ্ট করে জানান, ব্যক্তিগত স্তরে তাঁর সঙ্গে কারও বিরোধ নেই।
আরও পড়ুন: Yubasathi : প্রথম দিনেই লক্ষাধিক আবেদন, অনলাইনেও শুরু যুবসাথী প্রকল্পে নাম নথিভুক্তির প্রক্রিয়া
সম্প্রতি তৃণমূল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। এরপর তিনি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। তৃণমূল বাদে বাকি সব রাজনৈতিক দলকে জোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার মধ্যে সিপিএমও ছিল। সেই সূত্রে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম নিউটাউনে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক ঘিরেই দলের অন্দরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
সেই সময় সিপিএমের (CPIM) একাংশের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় তরুণ নেতা শতরূপকে। তিনি মন্তব্য করেন, “সিপিএম এখনও বলেনি হুমায়ুনকে তারা ভরসা করবে কি না। কিন্তু নীতি-নৈতিকতার দায় কি কেবল আমাদেরই? বিজেপি প্রার্থী করলে সমস্যা নেই, তৃণমূল মন্ত্রী করলে দোষ নেই আর সিপিএম কথা বললেই অপরাধ হয়ে গেল?”
এই বক্তব্যের পরেই প্রতীক-উর একটি ফেসবুক পোস্ট করেন, যেখানে তিনি লেখেন, ‘নীতি ও নৈতিকতা ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।’ যদিও সেখানে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে দলের অন্দরে জল্পনা চলতে থাকে যে মন্তব্যটি শতরূপকে লক্ষ্য করেই করা।
এরপর রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সিপিএম নেতৃত্বের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রতীক-উর (Pratika Ur Rahman) লেখেন, “সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি না। মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগছি। সেই কারণেই সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছি।”
এ বিষয়ে শতরূপ বলেন, “আমি এখন কলকাতার বাইরে আছি। পুরো বিষয়টি বিস্তারিত জানি না। প্রতীক-উর (Pratik Ur Rahman) আমাদের দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আমি আশা করব বিষয়টি মিটে যাবে।” অন্যদিকে প্রতীক-উর জানান, “ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে আমার বিরোধ নেই। যা বলার, পার্টিকেই বলেছি। এখনও শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণ, তাই এখনই সব প্রকাশ্যে বলতে চাই না। সময় এলে মিডিয়াকে জানাব।”
প্রতীক-উরের চিঠি সামনে আসতেই রাজনৈতিক আক্রমণে নামেন কুণাল ঘোষ। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লেখেন, “সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্ব আর ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে দলের প্রথম সারির যুবনেতাদের এমন অবস্থাই হওয়া স্বাভাবিক।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
