Snake : আসানসোলে গোখরোর ছোবলে আহত সাপ উদ্ধারকারী, চিকিৎসকদের চিন্তা আঙুল বাঁচবে তো?

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: আসানসোলের হীরাপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত হলেন এক অভিজ্ঞ সাপ উদ্ধারকারী। ১৫ বছর ধরে সাপ (Snake) ধরার অভিজ্ঞতা থাকা গণেশ দাসের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই এবার কাল হয়ে দাঁড়াল। বৃহস্পতিবার রাতে সাপ ধরতে গিয়ে বিষাক্ত গোখরোর (Poisonous Cobra) ছোবলে গুরুতর আহত হন তিনি। বর্তমানে তিনি আসানসোল জেলা হাসপাতালের (Asansol District Hospital) সিসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।

আরও পড়ুন: Prawn Recipes: গন্ধরাজের ছোঁয়ায় চিংড়ির পাতুরি, রবিবারের ভোজে নতুন স্বাদের জাদু!

জানা গিয়েছে, হীরাপুর থানা এলাকার বাসিন্দা গণেশ দাস বহু বছর ধরে সাপ উদ্ধার (Snake Rescue Operation) ও নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়ার কাজ করতেন। গৃহস্থ বাড়ি, দোকান বা কারখানায় সাপ ঢুকলেই তার নামেই ডাক পড়ত। হাতে যন্ত্রপাতি নিয়ে সহজেই সাপ ধরতেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাই পাল্টে দিল সবকিছু। সেদিন ঘরের মধ্যে বিষাক্ত গোখরো দেখা দেয়। আহত অবস্থাতেও, পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা নিয়ে, লুঙ্গি পরা অবস্থায় গণেশ যন্ত্রপাতি হাতে সাপ ধরতে চলে যান। তিনি লোহার দণ্ড (Iron Rod) দিয়ে সাপের মাথা চেপে ধরে মাথা ও লেজ দুটোই নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু সাপটি ব্যাগে ঢোকানোর সময় আচমকা লেজ নেড়ে তাঁর হাতের আঙুলে কামড় বসায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

তাকে দ্রুত ভর্তি করা হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। প্রথমে অবস্থার অবনতি হলেও পরে তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (Critical Care Unit – CCU) স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসক সোমনাথ গুপ্তের তত্ত্বাবধানে চলছে চিকিৎসা। চিকিৎসকদের মতে, “গণেশ দাসের প্রাণ বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু তার বাম হাতের কড়ে আঙুলটি (Little Finger) রক্ষা পাওয়া কঠিন হতে পারে।” ঘটনার পর উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — গণেশ দাস কি বনদফতরের (Forest Department) প্রশিক্ষিত সাপ ধরার কর্মী ছিলেন? পশ্চিম বর্ধমান জেলার ডিএফও (DFO) অনুপম খাঁ জানান, “বনদফর সাধারণ মানুষকে সাপ ধরার প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স (License) দেয় না। আমাদের নিজস্ব প্রশিক্ষিত কর্মীরাই এই কাজ করেন, এবং তাঁদের যথাযথ সুরক্ষা সামগ্রী থাকে। সাধারণ মানুষ যদি এইভাবে সাপ ধরেন, তা বেআইনি (Illegal Activity)।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole

আসানসোলের ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার (Wildlife Photographer) ও ‘ওয়াইল্ড টাসকার্স’ (Wild Tuskers) স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাপতি সপ্তর্ষি মুখোপাধ্যায় বলেন, “সাপ ধরার আগে অত্যন্ত সাবধানতা জরুরি। সাধারণ মানুষকে সচেতন (Awareness) হতে হবে। কোথাও সাপ দেখলে বনদফতর বা অনুমোদিত উদ্ধারকারীদের খবর দিন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নেবেন না।”