DNA Research: ইউরোপ নয়, আফ্রিকা! ইংরেজদের পূর্বপুরুষ নিয়ে তত্ত্বে বড় পরিবর্তন

বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: ইংরেজদের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে প্রচলিত যেসব ইতিহাস পড়ানো হত, তাতে বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলল সাম্প্রতিক জিনগত গবেষণায় (genetic research)। এতদিন মনে করা হত, ইংরেজদের পূর্বপুরুষেরা মূলত ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে ইংল্যান্ডে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাদের উৎস ছিল অ্যাংলো স্যাক্সন, কেল্টিক এবং জার্মানিক উপজাতি (Anglo-Saxon)। কিন্তু নতুন এক গবেষণা জানাচ্ছে ইংল্যান্ডের জিনগত ইতিহাস অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। ইংল্যান্ডের কিছু মানুষের বংশধারা নাকি বহুদূর পশ্চিম আফ্রিকা পর্যন্ত গিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ইংল্যান্ডের কেন্ট এবং ডরসেট অঞ্চলে দুটি পুরনো সমাধিক্ষেত্র (archaeological site) থেকে দুই ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেন। তাদের বয়স নির্ণয় করে দেখা যায়, সপ্তদশ শতকে অ্যাংলো স্যাক্সন যুগের সময়কালেই এই দুই ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে, এবং ব্রিটেনে নতুন সামাজিক কাঠামোর উদ্ভব হচ্ছিল। এরপর এই কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা (DNA test) করতে গিয়ে বিস্ময়কর তথ্য হাতে আসে।

আরও পড়ুন:Ranveer Singh : রণবীরের মাথায় হাত! লালকেল্লার বিস্ফোরণে স্থগিত ট্রেলার লঞ্চ

পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই দুই ব্যক্তির ২০ থেকে ৪০ শতাংশ আফ্রিকান জিন (African ancestry) পাওয়া গেছে। জিনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া গেছে পশ্চিম আফ্রিকার ইয়োরুবা, মেন্ডে, মান্ডেকা এবং এসান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে। অর্থাৎ কেবল ইউরোপ নয়, আফ্রিকাও ইংরেজদের বংশবৃক্ষের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস। গবেষক ডানকান সেয়ার জানিয়েছেন, এই দুই মৃতব্যক্তির পূর্বপুরুষেরা ছিলেন মিশ্র বংশোদ্ভূত— এমনকি সাংস্কৃতিক মেলামেশারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। সমাধি থেকে উদ্ধার হওয়া শিল্পসামগ্রী ইঙ্গিত দেয়, আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগ বা আদানপ্রদান ছিল সক্রিয়। কেন্টে পাওয়া এক কিশোরীর সমাধিতে এমন কিছু পাত্র পাওয়া গেছে যা আফ্রিকান উৎসের হতে পারে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

জার্মান গবেষক জশচা গ্রেটজিঙ্গারের যুক্তি, সম্ভবত ওই কিশোরীর কোনও পূর্বপুরুষ এমন একজনকে বিয়ে করেছিলেন, যার শেকড় আফ্রিকায়। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ষষ্ঠ শতকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য যখন উত্তর আফ্রিকা দখল করে, তখন সেখান থেকে ব্রিটেনে মানুষের অভিবাসন (migration) ঘটে। সেই লাইনেই এই দুই কঙ্কাল হতে পারে অভিবাসী বংশধারার প্রমাণ।এই আবিষ্কার শুধুই ইতিহাস নয়— এটি দেখিয়ে দিচ্ছে, মধ্যযুগের ইংল্যান্ড ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ, বহুসংস্কৃতির এবং বহু জাতিগত পরিচয়ে গঠিত। ইংরেজদের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা তাই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিজ্ঞানীদের।