Telescope: দুই কৃষ্ণগহ্বরের মিলনের পথে মহাবিশ্ব! ধরা পড়ল মহাজাগতিক শক্তির খেলা

বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: বহু দশকের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দু’টি কৃষ্ণগহ্বরের (Black Holes) পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করার ছবি তুলতে সক্ষম হলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা (Astronomers)। এই বিরল দৃশ্যটি ধরা পড়েছে পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০০ কোটি আলোকবর্ষ (Light Years) দূরের এক উজ্জ্বল কোয়েজারে (Quasar), যার নাম ‘ওজে২৮৭’ (Telescope)। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ছবির মাধ্যমে মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচনের এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল।

আরও পড়ুন:QR Code: ফোনে এক স্ক্যান, মুহূর্তে পেমেন্ট! কিউআর কোডের পেছনের বিজ্ঞান জানেন?

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দুই কৃষ্ণগহ্বর যেন একে অপরকে ঘিরে এক ‘মহাজাগতিক নৃত্য’ (Cosmic Dance) করছে। তাদের অবস্থান এতটাই নিখুঁতভাবে মিলেছে যে তা কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাসের সঙ্গেও পুরোপুরি মিলে গেছে। ফিনল্যান্ডের টুর্কু বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Turku, Finland) জ্যোতির্বিজ্ঞানী মওরি ভাল্টোনেন (Mauri Valtonen) বলেন, “ওজে২৮৭ এতটাই উজ্জ্বল যে যে কোনও নবীন জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিজের টেলিস্কোপ দিয়েও এটি দেখতে পারবেন।”

কোয়েজার আসলে মহাবিশ্বের এক প্রাচীনতম জ্যোতিষ্ক (Celestial Object), যা সৃষ্টি হয় গ্যালাক্সির (Galaxy) কেন্দ্রে অবস্থিত দানবাকৃতি কৃষ্ণগহ্বর থেকে। এই কোয়েজার প্রায় আলোর গতিতে (Speed of Light) মহাকাশে কণা (Particles) ছড়িয়ে দেয়, যা শক্তিশালী রেডিয়ো তরঙ্গ (Radio Waves) তৈরি করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই দুটি কৃষ্ণগহ্বর ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হলে প্রচণ্ড পরিমাণ শক্তি (Energy Emission) নির্গত হবে—যা মহাবিশ্বের শক্তি-বিন্যাস (Cosmic Energy Distribution) বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে।

Oplus_16908288

এর আগে বিজ্ঞানীরা আমাদের ছায়াপথের (Milky Way Galaxy) কেন্দ্রে এবং মেসিয়ের ৮৭ (Messier 87)-এ কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু দু’টি কৃষ্ণগহ্বরকে এভাবে পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করতে দেখা—এটাই প্রথম। ছবিতে দেখা গিয়েছে, ছোট কৃষ্ণগহ্বরটির জেট (Jet) বা উৎসমুখটি কিছুটা বাঁকা, যা অনেকটা মহাজাগতিক পুচ্ছের (Cosmic Tail) মতো দেখতে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

কৃষ্ণগহ্বর গঠিত হয় অত্যন্ত বৃহৎ ভরের নক্ষত্রের (Massive Star) মৃত্যুর পর। যখন কোনও নক্ষত্রের ভর সূর্যের (Sun) ভরের প্রায় ২০ গুণ বা তার বেশি হয়, তখন তার ‘মৃত্যু’ (Stellar Death) শেষে তা সঙ্কুচিত হয়ে তৈরি হয় কৃষ্ণগহ্বর। এই কৃষ্ণগহ্বরের মহাকর্ষ (Gravity) এতটাই শক্তিশালী যে এর দিগন্তের (Event Horizon) ভিতর থেকে আলোও বেরোতে পারে না। তাই সেটি অদৃশ্য হলেও তার চারপাশের উজ্জ্বল গ্যাসের (Hot Gas Accretion Disk) মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা তার অস্তিত্বের প্রমাণ পান।এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ (Observation) ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় (Space Research) এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে—এমনটাই আশা বিজ্ঞানীদের।