নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে বাঁকুড়া এমন এক জেলা, যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রকৃতি হাত ধরাধরি করে চলে। এই জেলার বুকের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিহারীনাথ পাহাড় (Biharinath Hill)—বাঁকুড়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৫১ মিটার উঁচু এই পাহাড় পূর্বঘাট পর্বতমালার একটি অংশ। চারপাশে লাল মাটির দেশ, শাল-পলাশের অরণ্য আর ছোট ছোট আদিবাসী গ্রাম মিলিয়ে বিহারীনাথ (Biharinath Hill) যেন এক অনন্য শিল্পকর্ম, যা প্রকৃতি নিজ হাতে গড়ে তুলেছে।পাহাড়ের পাদদেশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিহারীনাথ মন্দির (Biharinath Temple)। কথিত আছে, তৎকালীন রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই শিবলিঙ্গের সন্ধান পান। শিবের এক নামই হল বিহারীনাথ, সেই নামেই এই ধামের পরিচিতি। আজও দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন এখানে পুজো দিতে, মানত করতে। পাহাড়ের চূড়া থেকে চোখ মেলে তাকালে দেখা যায় ঘন জঙ্গল, ছড়িয়ে থাকা ছোট গ্রাম আর বাঁকুড়া জেলার বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ভোরবেলার কুয়াশার ফাঁকে টাটকা খেজুরের রসের স্বাদ এই অভিজ্ঞতাকে করে তোলে আরও বিশেষ।
আরও পড়ুন : KMC : কলকাতায় ভূগর্ভে রেন ওয়াটার হারভেস্টিং, শহরের জলস্তর হবে পুনর্গঠিত!
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বিহারীনাথও (Biharinath Hill) নিজের রূপ পাল্টায়। বসন্তে পলাশের লাল-কমলা ছায়ায় পাহাড় জ্বলে ওঠে, বর্ষায় সবুজের গাঢ় চাদরে ঢেকে যায় চারদিক, আর শীতে শুকনো পাতার মড়মড় শব্দের সঙ্গে হিমেল হাওয়া এনে দেয় অন্যরকম অনুভূতি। পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড়বেড়া নামের আদিবাসী গ্রামে মাটির দেওয়ালে আঁকা রঙিন আলপনা গ্রামীণ লোকশিল্পের উজ্জ্বল প্রমাণ।প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছেও বিহারীনাথ আকর্ষণীয় (Biharinath Hill)। হালকা ট্রেকিং বা রক ক্লাইম্বিংয়ের সুযোগ রয়েছে এখানে। যারা প্রথমবার ট্রেকিং করতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। কাছাকাছি ঘুরে দেখা যায় গড়পঞ্চকোট, জয়চন্ডী পাহাড়, পাঞ্চেত ও মাইথন বাঁধ, কল্যাণেশ্বরী মন্দির, এমনকি লোকদেবীর স্থান ভূতাবুড়ি ও ঘাঘরাবুড়িও।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
যাতায়াতের দিক থেকে এই জায়গাটি বেশ সুবিধাজনক। কলকাতা থেকে ট্রেনে বাঁকুড়া, রানিগঞ্জ বা মধুকুন্ডায় নেমে সেখান থেকে শালতোড়া হয়ে পাহাড়ে পৌঁছনো যায়। চাইলে ব্যক্তিগত গাড়িতেও আসা যায়। থাকার জন্য রয়েছে রিসর্ট ও হোস্টেল, তবে পর্যটনের মরশুমে আগেভাগে বুকিং না করলে সমস্যা হতে পারে। প্রকৃতি, ইতিহাস আর শান্তির খোঁজে যারা ছুটির প্ল্যান করছেন, তাঁদের তালিকায় বিহারীনাথ থাকা উচিত একেবারে প্রথম সারিতে।
