নিউজ পোল ব্যুরো: এদেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার এখন কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পানীয় জলের বোতল, খাবারের প্যাকেট, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মোড়ক—প্রায় সর্বত্রই প্লাস্টিকের দাপট চোখে পড়ছে। অথচ এই সব প্লাস্টিকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। এই প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। ওই জনস্বার্থ মামলায় আবেদনকারীর দাবি ছিল, সব ধরনের প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ে (Plastic packaging) হু-এর (WHO guidelines) নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি বাধ্যতামূলক করা হোক। কারণ হিসেবে বলা হয়, প্লাস্টিক নমনীয় ও টেকসই করতে যে সব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিমোনি (Antimony) ও ডিইএইচপি (DEHP)। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এই রাসায়নিকগুলির সংস্পর্শে থাকলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অভিযোগ করা হয়, তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই (FSSAI) বোতল ও খাবারের প্যাকেটে সীমিত পরিমাণে এই উপাদান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। তবে আবেদনকারীর যুক্তি খতিয়ে দেখার পর শীর্ষ আদালত ওই পিটিশন খারিজ করে দেয় (Supreme Court) । শুধু তাই নয়, মামলাটি নিয়ে বিচারপতিদের মন্তব্যও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের আশঙ্কা মূলত “ধনীদের শহুরে আতঙ্ক” বা আর্বান এলিটদের ভয় থেকে জন্ম নেওয়া। বিচারপতি সূর্য কান্ত আবেদনকারীকে বাস্তব পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দেশের আসল চিত্র বুঝতে হলে শহরের সীমানা ছাড়িয়ে গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চলে যেতে হবে। আদালতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে এমন বহু এলাকা রয়েছে যেখানে মানুষ এখনও পর্যাপ্ত পানীয় জল পায় না। এমন পরিস্থিতিতে প্লাস্টিক বোতলের রাসায়নিক নিয়ে ভয় দেখানো কতটা বাস্তবসম্মত, তা ভেবে দেখা দরকার (Supreme Court)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
উদাহরণ হিসেবে তিনি মহাত্মা গান্ধীর কথাও তুলে ধরেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে গান্ধীজি প্রথমেই দেশের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করেছিলেন। বিচারপতির মতে, আবেদনকারীরও সেই পথ অনুসরণ করা উচিত। দেশের জলসংকটগ্রস্ত অঞ্চল ও প্রান্তিক মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলি বুঝতে পারলে তবেই সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা তৈরি হবে।
