নিউজ পোল ব্যুরো: ছোট বয়স থেকেই শিশুদের ওজন বাড়ছে, যা আজ আর বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং এক গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যার রূপ নিচ্ছে। শিশুদের স্থূলতা এখন বাবা-মা ও চিকিৎসকদের কাছে বড় চিন্তার কারণ। অতিরিক্ত ওজন শুধু চেহারার পরিবর্তনই নয়, ভবিষ্যতে ডায়াবিটিস (Childhood Diabetes Risk), হৃদরোগ ও নানা জটিল অসুখের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমান জীবনযাত্রাই এই সমস্যার মূল কারণ। বাইরের ফাস্ট ফুড, প্যাকেটজাত খাবার ও মিষ্টিজাতীয় খাদ্যের প্রতি শিশুদের ঝোঁক বেড়েছে। সন্তানের মন রাখতে অনেক বাবা-মাই নিয়ম না মেনে এসব খাবার কিনে দিচ্ছেন। পাশাপাশি পড়াশোনার চাপ আর প্রযুক্তির প্রভাবের কারণে শিশুরা মাঠে গিয়ে খেলাধুলার বদলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল বা ট্যাবের পর্দার সামনে বসে থাকছে। এর ফলে শরীরচর্চার অভাব দেখা দিচ্ছে এবং ধীরে ধীরে মেদ জমছে শরীরে।
আরও পড়ুন : Weather Update : দক্ষিণবঙ্গে নামছে পারদ, কলকাতায় জাঁকিয়ে শীত! উত্তরবঙ্গে কাবু জনজীবন
চিকিৎসক সুব্রত গড়াইয়ের মতে, এখন ছোট বয়সেই গ্যাস, অম্বল, হজমের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। শরীরচর্চা না করার ফলে শিশুদের মধ্যে আলস্য বাড়ছে এবং বিপাকক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করছে না। এর ফলেই শিশু বয়স থেকেই ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’ (Metabolic Syndrome) হানা দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগের বড় কারণ হতে পারে। এই সমস্যার লক্ষণ হিসেবে হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, পেট ও কোমরে থলথলে চর্বি জমা, রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি এবং রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে গেলে ডায়াবিটিসের (Childhood Diabetes Risk) ঝুঁকিও দ্রুত বাড়ে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই শিশুকে নিয়মে বাঁধতে হবে এবং সেই নিয়ম মেনে চলতে মা-বাবাকেও উদাহরণ তৈরি করতে হবে। রান্না করতে ইচ্ছে না হলে বারবার হেলথ ড্রিঙ্ক (Health Drink) বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়া, বায়না মেটাতে চকোলেট ধরিয়ে দেওয়া কিংবা পর্যাপ্ত ঘুম না দিয়ে পড়তে বসানো—এই অভ্যাসগুলো বদলানো জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা ও যোগাসন (Yoga for Children) শিশুর দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ করে তুললে স্থূলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে যোগাসন করানো ভাল। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে ডাল, মাছ, মুরগির মাংস, সবুজ শাকসব্জি, ফল ও সয়া প্রোটিন। প্রোটিন, ফ্যাট ও শর্করার সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে পরিমিত ও ঘরোয়া খাবারই হতে পারে শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।
