নিউজ পোল ব্যুরো: ঋতু পরিবর্তনের সময় এলেই বহু মানুষের জীবনে শুরু হয় গলার সমস্যা। বিশেষ করে যারা টনসিলের (Tonsillitis) ব্যথায় ভোগেন, তাদের কাছে এই সময়টা বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। শুধু বড়রা নন, শিশুরাও টনসিলের (Tonsillitis) সমস্যায় ভোগে। অনেক শিশুর মুখ থেকে দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ বেরোয়, আবার কারও কারও কথাবার্তা ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে যেতে দেখা যায়। এই সব উপসর্গের নেপথ্যেও অনেক সময় টনসিল (Tonsillitis) দায়ী থাকে। সাধারণত টনসিলের (Tonsillitis) প্রদাহ দুই রকমের হয়— হঠাৎ হওয়া তীব্র বা অ্যাকিউট টনসিলাইটিস এবং দীর্ঘদিন চলতে থাকা ক্রনিক টনসিলাইটিস (Tonsillitis)। সমস্যার ধরন যাই হোক না কেন, সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।
টনসিল আসলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নাক ও মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করা ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে টনসিল। এতে থাকা শ্বেত রক্তকণিকা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। মুখগহ্বরের ভিতরে থাকা টনসিলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়— লিঙ্গুয়াল, প্যালাটাইন, টিউবাল ও অ্যাডেনয়েড। এই অংশগুলির যে কোনও একটিতে প্রদাহ হলেই তাকে টনসিলাইটিস বলা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, প্রায় ৭০ শতাংশ টনসিলের সংক্রমণ হয় ভাইরাসের কারণে। ভাইরাল টনসিলাইটিস তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা যায়। তবে স্ট্রেপকোকক্কাস নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে যে ব্যাক্টেরিয়াল টনসিলাইটিস (Tonsillitis) হয়, তা আরও যন্ত্রণাদায়ক। এই অবস্থাকে সাধারণত স্ট্রেপ থ্রোট বলা হয়। এতে গলায় তীব্র ব্যথা, জ্বর, গলা বসে যাওয়া ও কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
টনসিলাইটিস (Tonsillitis) একটি ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, লালা বা থুতুর মাধ্যমে সহজেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। একই থালা বা গ্লাস ব্যবহার করলেও ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সংক্রমণ হলে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন টনসিলের সমস্যা অবহেলা করলে ফাইব্রোসিস, স্লিপ অ্যাপনিয়া কিংবা টনসিলার সেলুলাইটিসের মতো জটিল রোগও দেখা দিতে পারে। তাই গলা ব্যথা, জ্বর বা গিলতে কষ্ট হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক যত্ন, ঘরোয়া উপায় ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাতেই টনসিলের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
