নিউজ পোল ব্যুরো: ডায়াবিটিস বলতে সাধারণত আমরা টাইপ ১ বা টাইপ ২ -এর কথাই জানি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসা মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরও একটি ধরন, টাইপ ৫ ডায়াবিটিস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবিটিস ফেডারেশন (IDF) এই রোগটি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। কারণ, অন্যান্য ডায়াবিটিসের তুলনায় এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মূলত কিশোর ও কমবয়সিরা।
টাইপ ৫ ডায়াবিটিস মূলত অপুষ্টিজনিত ডায়াবিটিস । দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অভাবে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদনের ক্ষমতা কমে যায় বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে অনেক সময় শরীরের ওজন কম থাকে, যা সাধারণ ডায়াবিটিসের চিত্রের থেকে আলাদা। অতিরিক্ত ওজন নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপুষ্টিই এখানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ।
এই রোগের উপসর্গ অনেক সময় খুব স্পষ্ট হয় না, তাই শনাক্ত করতেও দেরি হয়। টাইপ ৫ ডায়াবিটিসের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—
• অল্প পরিশ্রমেই অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা।
• স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খিদে পাওয়া ও ঘন ঘন গলা শুকিয়ে যাওয়া।
• শরীরের কোথাও কেটে গেলে ক্ষত সারতে দীর্ঘ সময় লাগা।
• এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা।
• হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া।
• বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ ।
• ত্বকে চুলকানি, র্যাশ বা অন্যান্য চর্মরোগ।
• কিছু ক্ষেত্রে রক্তাল্পতা (Anaemia) দেখা দেওয়া।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডায়াবিটিস দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে মারাত্মক আকার নিতে পারে। সময়মতো শনাক্ত না হলে রোগী ধীরে ধীরে অপুষ্টি ও শারীরিক দুর্বলতার শিকার হন, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। বর্তমানে টাইপ ৫ ডায়াবিটিসের নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানোই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
