নিউজ পোল ব্যুরো: সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সামনে এসেছে এমন এক তথ্য, যা চিকিৎসা মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মানুষের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে অটোইমিউন লিভারের রোগের (Autoimmune Liver Disease) সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। বিশেষ করে A এবং B ব্লাড গ্রুপের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ‘ফ্রন্টিয়ার্স’ (Frontiers) জার্নালে। অটোইমিউন লিভার রোগ (Autoimmune Liver Disease) এমন এক ধরনের অসুখ, যেখানে শরীরের নিজের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ভুলবশত লিভারের সুস্থ কোষকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করে। এর ফলে লিভারে ধীরে ধীরে প্রদাহ, ক্ষত এবং স্থায়ী ক্ষতির সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ক্ষতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত লিভার ফেইলিওর (Autoimmune Liver Disease) পর্যন্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee : বিদেশি পর্যটকের পছন্দে দেশজুড়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলা, গর্বের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাদের ব্লাড গ্রুপ A, তাদের অটোইমিউন হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই রোগে লিভারের কোষে দীর্ঘদিন ধরে প্রদাহ চলতে থাকে, যার ফলে লিভারের টিস্যুতে দাগ পড়ে যায় (ফাইব্রোসিস) এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিরোসিস বা লিভার বিকল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অন্যদিকে, যাদের রক্তের গ্রুপ B, তাদের ক্ষেত্রে প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলানজাইটিস নামক রোগের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। এই রোগে লিভারের পিত্তনালিগুলি ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে, যার ফলে পিত্ত নিঃসরণ ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই গবেষণা অটোইমিউন লিভার রোগের (Autoimmune Liver Disease) আগাম সতর্কতা ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে যাদের পরিবারে আগে থেকেই অটোইমিউন রোগের (Autoimmune Liver Disease) ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপ জানার মাধ্যমে ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা করা সম্ভব হবে। ফলে সময়মতো পরীক্ষা, নজরদারি ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে জটিলতা অনেকাংশে কমানো যেতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাদের ব্লাড গ্রুপ A বা B এবং সঙ্গে যদি দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, পেটের ডানদিকে ব্যথা, চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়, তবে দ্রুত লিভার পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা এবং আগাম সতর্কতাই এই মারাত্মক রোগ থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
