Fatima Sana Shaikh: মৃগী রোগে কি নিরাপদ বিমানযাত্রা? ফাতিমা সানা শেখের ঘটনার পর যা জানা জরুরি

পেজ 3 স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ (Fatima Sana Shaikh) মাঝ-আকাশে এক গুরুতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। বিমানযাত্রার সময় হঠাৎ মৃগীর খিঁচুনি শুরু হয় তাঁর। বিমানকর্মীদের তৎপরতায় তাঁকে সামলানো সম্ভব হলেও, প্রশ্ন উঠে যায়—মৃগী রোগ থাকলে আদৌ কি বিমানযাত্রা নিরাপদ?

আরও পড়ুন: Shefali Jariwala: “কাঁটা লাগা গার্ল”-এর মঞ্চে শেষ পর্ব, এক্স হ্যান্ডলের শেষ পোস্টে ভাগ্য যেন লিখে গিয়েছিলেন নিজেই…

মৃগী একটি জটিল স্নায়বিক রোগ, যার প্রভাব শুধু শরীরেই নয়, মানসিকভাবেও পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় যেমন নানান বাধা থাকে, তেমনই জনপরিসরে বা যাত্রাপথে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ মাঝ-আকাশে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। বিমানযাত্রার সময় হঠাৎই তাঁর শরীরে তীব্র খিঁচুনি শুরু হয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এটি মৃগী বা এপিলেপ্সির লক্ষণ।

এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—মৃগী থাকলে কি নিরাপদে বিমানযাত্রা করা সম্ভব? কী কী সাবধানতা অবলম্বন করলে এমন ঝুঁকি কমানো যায়? শুধু বিমানযাত্রা নয়, এই রোগের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপনে কী কী নিয়ম মানা উচিত, তা জানা আজকের দিনে অত্যন্ত জরুরি। কারণ সময়মতো চিকিৎসা, সচেতনতা এবং জীবনধারায় কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে মৃগীকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এই প্রতিবেদন সেই দিকেই আলোকপাত করছে—মৃগীর কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার এবং ভ্রমণের সময় রোগী কীভাবে নিরাপদ থাকতে পারেন, তা নিয়েই থাকছে বিস্তারিত আলোচনা।

মৃগী  সাধারণত মস্তিষ্কের স্নায়ুর অস্বাভাবিক ‘স্পার্কিং’-এর ফলে হয়ে থাকে। জিনগত কারণে, মাথায় আঘাত, টিউমার, অথবা শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা হঠাৎ কমে গেলেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। এটি মূলত দু’ধরনের—প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারিতে মস্তিষ্কে কোনও গঠনগত ত্রুটি না থাকলেও, সেকেন্ডারিতে বাইরের প্রভাবেই মৃগী তৈরি হয়।

এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, দৃষ্টিভ্রম ইত্যাদি। খিঁচুনির সময় রোগীকে স্পর্শ না করে পাশে নরম কিছু দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া এবং চোট থেকে বাঁচানো খুব জরুরি। হাত-পা জোর করে ধরে রাখলে হাড়ে চোট বা ফ্র্যাকচার হতে পারে।

তবে মৃগী রোগীদের জন্য বিমানযাত্রা একেবারে নিষিদ্ধ নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে, কিছু সতর্কতা মানলেই তারা নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, উদ্বেগ বা স্ট্রেস কমানো এবং ঘুমের সঠিক রুটিন বজায় রাখাই এর মূল চাবিকাঠি।

সতর্কতা হিসেবে কিছু জরুরি দিক:
১) মদ্যপান, ধূমপান, ও যে কোনও নেশা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।
২) কোনওভাবেই ওষুধ খাওয়া বাদ দেওয়া যাবে না।
৩) প্রতিদিন কমপক্ষে ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
৪) রোগের প্রকৃতি বোঝার জন্য সময়মতো EEG ও MRI করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যদি নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও জীবনযাত্রায় কিছু নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখা যায়, তবে মৃগী রোগীরাও স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন। এমনকি, দূরত্বভিত্তিক বিমানযাত্রাও নিরাপদ হতে পারে—যেমনটা ফাতিমা সানা শেখের (Fatima Sana Shaikh) অভিজ্ঞতা আমাদের শেখাল।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT