যাদবপুরে বিএলও-র অস্বাভাবিক মৃত্যু! নেপথ্যে কি SIR সংক্রান্ত কাজের প্রবল চাপ?

কলকাতা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যে ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, তারই দু’টি মর্মান্তিক ঘটনায় বৃহস্পতিবার শোরগোল ছড়াল রাজ্যের দুই প্রান্তে। পূর্ব যাদবপুরের মুকুন্দপুরে এক বিএলও-র অস্বাভাবিক মৃত্যু যেমন প্রশ্ন তুলে দিল প্রশাসনিক চাপের মাত্রা নিয়ে, তেমনই মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সামশেরগঞ্জে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উঠছে আতঙ্কের অভিযোগ।

আরও পড়ুন: Bankura: ছাতনায় রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে! ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া নিয়ে হাতাহাতি তৃণমূল ও বিজেপির

পূর্ব যাদবপুরের মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যা নগরের বাসিন্দা অশোক দাসের ঝুলন্ত দেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হয় তাঁর নিজের বাড়ি থেকে। পরিবারের সদস্যরাই প্রথম তাঁকে ওই অবস্থায় দেখতে পান। তড়িঘড়ি তাঁকে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। অশোক দাস পেশায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বহরু হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি রাজ্যে চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও-র দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। পূর্ব যাদবপুরের চিতকালিকাপুর এফ.পি. স্কুলের ১১০ নম্বর ভোটকেন্দ্রে বিএলও হিসেবে কাজ করছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অশোক দাস চরম মানসিক চাপে ছিলেন। তাঁর দিদির দাবি, পাড়ায় এবং কাজের জায়গায় নানা চাপ ও উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছিল তাঁকে। এই মৃত্যুর নেপথ্যে সেই চাপের ভূমিকা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে, একই দিনে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থেকেও এসআইআর (SIR) ঘিরে মৃত্যুর অভিযোগ উঠে এসেছে। সামশেরগঞ্জ থানার রামেশ্বরপুর চাচন্ড গ্রামের বাসিন্দা ৬০ বছরের পুটু শেখের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, এসআইআর শুনানির নোটিস আসার পর থেকেই তীব্র আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। নোটিসে তাঁর নাম ভুলভাবে লেখা হয়েছিল, যা নিয়ে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের নামেও নোটিস আসায় ভয় আরও বেড়ে যায়।

বৃহস্পতিবার পরিবারের সকলেই শুনানি কেন্দ্রে গেলে বাড়িতে একা ছিলেন পুটু শেখ। সেই সময় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস ও তার জেরে তৈরি হওয়া মানসিক চাপই তাঁর মৃত্যুর কারণ। এই দুই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের উপর চাপ কতটা মানবিক সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole