নিউজ পোল ব্যুরো: দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) নতুন উদ্যোগে এবার অপরাধীদের ঘুম ছুটবে। অপরাধ করলে আর নিস্তার নেই। কারণ, এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day Security) নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু পুলিশের হাতে নয়, মাঠে নামছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI। সাধারণ দেখতে একজোড়া চশমা (Spectacles), কিন্তু সেই চশমার ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। চলুন এবার জেনে নেই বিস্তারিত।
দিল্লি পুলিশ ব্যবহার করতে চলেছে AI-সক্ষম স্মার্ট স্পেকট্যাকলস, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (Facial Recognition System) এবং থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি (Thermal Imaging Technology)। কর্তব্য পথে মোতায়েন পুলিশকর্মী থেকে শুরু করে প্যাট্রোলিং ইউনিট—সবাইয়ের চোখে থাকবে এই স্মার্ট চশমা। কাউকে সন্দেহ হলেই এক ঝলক তাকানো, আর মুহূর্তের মধ্যেই সেই ব্যক্তির সমস্ত তথ্য ভেসে উঠবে পুলিশের ডেটাবেস থেকে।
এই স্মার্ট স্পেকট্যাকলস স্ক্যান করলেই রঙে রঙে বুঝিয়ে দেবে বিপদ। নির্দোষ হলে স্ক্রিনে সবুজ বক্স, আর যদি অপরাধের কোনও রেকর্ড থাকে, সঙ্গে সঙ্গে লাল বক্স। অর্থাৎ, ভিড়ের মধ্যেও অপরাধী আর লুকিয়ে থাকতে পারবে না। চোখের পলকে ধরা পড়ে যাবে সব পরিচয়।
শুধু মুখ চিনে নেওয়াই নয়, এই স্মার্ট চশমায় রয়েছে থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি। পোশাকের আড়ালে লুকোনো অস্ত্র, ধাতব বস্তু বা সন্দেহজনক কিছু থাকলেও তা ধরা পড়বে তাপমাত্রার মাধ্যমে। খালি চোখে যা দেখা যায় না, এবার তা-ও পুলিশের নজরে চলে আসবে। ফলে কমবে ম্যানুয়াল চেকিংয়ের ঝামেলা, বাড়বে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা।
এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে ভারতেরই সংস্থা অ্যাঞ্জালেন্স (AjnaLens)। মোট ১০০টি স্মার্ট স্পেকট্যাকলস বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। সশস্ত্র বাহিনী ও ডিআরডিও-র জন্য কাজ করা এই সংস্থার প্রযুক্তি এবার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাতেই ব্যবহার হবে।
AI চশমার পাশাপাশি দিল্লি জুড়ে আরও কড়া করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাড়ানো হয়েছে সিসিটিভ নজরদারি, ড্রোনের মাধ্যমে চলছে আকাশপথে পাহারা। একই এলাকায় বারবার চক্কর দেওয়া গাড়ির উপরেও থাকছে বিশেষ নজর। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে, যাতে নিরাপত্তার কোনও ফাঁক না থাকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবছর প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা। প্রযুক্তির সঙ্গে পুলিশের হাত মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে অদৃশ্য নিরাপত্তার বলয়। আর সেই বলয়ে পড়ে অপরাধীদের পালানোর আর কোনও রাস্তা নেই, দাড়ি, গোঁফ লাগিয়ে যতোই তারা ছদ্মবেশ নিক না কেন। ৪০ বছর আগেও কোনও অপরাধ করে পালিয়ে বেরোলেও নিস্তার নেই।
