নিউজ পোল ব্যুরো: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fire) প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত রুটে মিছিল করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে সেই প্রতিবাদ মিছিল ঘিরেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, শোক ও প্রতিবাদের কর্মসূচিতে বিজেপির মিছিলে ডিজে বাজানো হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কটাক্ষ, “এইটাই বিজেপির সংস্কৃতি—শোকের মধ্যেও রাজনৈতিক প্রদর্শনী।”
আনন্দপুরের (Anandapur Fire) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকদিন। প্রশাসনিক সূত্রে শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫-এ। এখনও ধ্বংসস্তূপে আরও দেহাংশ থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই দুর্ঘটনায় রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনাস্থলে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কিন্তু পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফে অনুমতি না মেলায় তিনি কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন। আদালত শর্তসাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি দেয় এবং নির্দিষ্ট রুটও বেঁধে দেয়। শুক্রবার সেই নির্দেশ মেনেই বিজেপির (BJP) মিছিল শুরু হয়। নরেন্দ্রপুর থানার (Narendrapur Police Station) ২০০ মিটার দূরে মিছিল শেষ হয়। সেখানেই একটি সংক্ষিপ্ত সভা করেন বিরোধী দলনেতা। অভিযোগ উঠেছে, মিছিল চলাকালীন জোরে ডিজে বাজানো হয়, যা শোকাহত পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। এই নিয়েই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।
আরও পড়ুন: water crisis : ব্রিকসে-র বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশেষ বার্তা ভারতের
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতেও আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় (Nazirabad Factory Fire) সংশ্লিষ্ট কারখানা ও গুদামে কর্মীদের স্বাভাবিক কাজ চলছিল। আচমকা আগুন ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যায়। এখন সেখানে শুধুই পোড়া ধ্বংসস্তূপ আর ঝাঁঝালো গন্ধ। নিখোঁজদের পরিবার এখনও প্রিয়জনের খোঁজে দিন কাটাচ্ছেন, উদ্বেগ বাড়ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া ২৫টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে শীঘ্রই ডিএনএ ম্যাপিং (DNA Mapping) শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ওয়াও মোমো (Wow! Momo) সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর সংস্থার তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে দায় চাপানো হয়েছে পাশের গুদামের উপর। পাশাপাশি নিহত তিন কর্মীর পরিবারের পাশে থাকার কথাও জানানো হয়েছে। এই সব মিলিয়ে আনন্দপুর কাণ্ড (Anandapur Fire Case) ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
