নিউজ পোল ব্যুরো: লোকসভায় কেন্দ্রীয় তথ্য পেশের পর ফের পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নজরদারি দল পাঠানো হলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন: Weather Update: ফেব্রুয়ারিতেই গরমের ইঙ্গিত, শীতের বিদায়ে স্বস্তি না অস্বস্তি?
লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক স্বীকার করেছে যে স্বচ্ছতা ও নজরদারির নামে বিভিন্ন রাজ্যে কেন্দ্রীয় দল পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ২০১৬-১৭ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গকে প্রায় ২৫,৭৯৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই প্রকল্পে নতুন করে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, যোগ্য ও অযোগ্য উপভোক্তা বাছাই নিয়ে সমস্যা, পাশাপাশি প্রকল্পের নাম ‘বাংলা আবাস যোজনা’ রাখা—এই ধরনের কিছু কারণ দেখিয়ে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, কেরল ও অসম-সহ একাধিক রাজ্যে কেন্দ্রীয় নজরদারি দল গিয়ে অনিয়ম খতিয়ে দেখেছে, রিপোর্ট জমা দিয়েছে। কিন্তু সেই সব রাজ্যের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে অর্থ বন্ধ করা হয়নি। মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কোনও রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। পরে কেন্দ্র সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে একাধিকবার রিপোর্ট জমা পড়লেও তা সন্তোষজনক নয় বলে দাবি করে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে শাস্তি দেওয়ার নীতি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার লোকসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে রাজ্যের মানুষ ১০০ দিনের কাজের টাকা পাচ্ছেন না। আবাস যোজনার ঘর থেকেও বহু মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, জল জীবন মিশনের অর্থ নিয়েও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবাকেও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ইস্যু ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
