KMC: বিনোদন কর আদায়ে এবার ‘অ্যাকশন মোডে’ লালবাজারের পড়শি! পুরসভার স্ক্যানারে শহরের নামী ক্লাব ও বার

কলকাতা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ শেষের মুখে বকেয়া কর আদায়ে জোরদার অভিযান শুরু করেছে Kolkata Municipal Corporation (KMC)। বিশেষ করে বিনোদন কর (অ্যামিউজমেন্ট ট্যাক্স) বাবদ যেসব অর্থ এখনও আদায় হয়নি, সেগুলি উদ্ধারেই এখন প্রধান গুরুত্ব দিচ্ছে পুর প্রশাসন। ইতিমধ্যেই শহরের একাধিক নামী ক্লাব, রেস্তরাঁ, পানশালা, ব্যাঙ্কোয়েট হল এবং খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থার বিভিন্ন আউটলেটে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: Madhyamgram Fire : হোলির দুপুরে মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আগুন! সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পুড়ল একাধিক দোকান

পুরসভা (KMC) সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায়, শহরের নানা প্রান্তে বিপুল পরিমাণ বিনোদন কর বকেয়া পড়ে রয়েছে। বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠানের এক লক্ষ টাকা বা তার বেশি কর বাকি রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চিহ্নিত করে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। তবে ১০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকলেও কোনও রকম ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

বিনোদন কর বিভাগের দাবি, এখনও পর্যন্ত শতাধিক ডিমান্ড নোটিস জারি করা হয়েছে। পুরকর্মীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিতে গিয়ে বকেয়া করের নোটিস তুলে দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে করখেলাপি হিসেবে ঘোষণা করে তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে পোস্টার টাঙিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

পুর (kMC) আধিকারিকদের বক্তব্য, করখেলাপিদের দু’টি আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম তালিকায় রয়েছেন ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি বকেয়া রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় তালিকায় রয়েছে এক লক্ষ টাকার বেশি বকেয়া থাকা সংস্থাগুলি। পুরসভা সূত্রে দাবি, এক লক্ষ বা তার বেশি বকেয়া রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের মোট পাওনা প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে ১০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকার মধ্যে বকেয়া রয়েছে এমন ক্ষেত্রে মোট অঙ্ক প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা। লক্ষাধিক টাকার করখেলাপির তালিকায় বেলেঘাটার এক ব্যবসায়ীর অনুষ্ঠানবাড়ি ও রেস্তরাঁ-পানশালার নামও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন সময় চাইলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া না মেটালে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবর্ষে বিনোদন কর আদায়ে রেকর্ড গড়েছে কলকাতা পুরসভা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যেখানে মোট আদায় হয়েছিল প্রায় ৮ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই সেই অঙ্ক ১১ কোটিতে পৌঁছে গিয়েছে। অর্থবর্ষ শেষের আগে বকেয়া আদায়ে আরও জোরদার অভিযান চালিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েছে পুর প্রশাসন। কর বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, পুরসভার আয়ের মূল ভিত্তি কর আদায়, আর সেই অর্থেই নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দিলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole