PM Narendra Modi : গ্যাস সংকট নিয়ে দেশবাসীকে বার্তা মোদির, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

breakingnews দেশ

নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে নতুন করে চাপের মুখে ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থা। ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির (Iran–Israel–US Conflict) প্রভাব পড়েছে সরাসরি ভারতের রান্নাঘরেও। তেল ও গ্যাস সরবরাহে ধাক্কা লাগায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট (Gas Crisis in India)। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর উদ্দেশে আশ্বাসবাণী শোনালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। শুক্রবার এনএক্সটি সম্মেলনে (NXT Conclave) বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন (PM Narendra Modi), বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশের মানুষের উপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কোভিড মহামারির সময় যেমন ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে ভারত সফল হয়েছিল, তেমনই এবারও এই জ্বালানি সংকট (Energy Crisis) মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

আরও পড়ুন : Weather Update : আকাশ মেঘলা, ঝড়-বৃষ্টির ইঙ্গিত রাজ্যে! কী বলছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর

প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi) বলেন, “১৪০ কোটি ভারতবাসীর শক্তিই দেশের আসল সম্পদ। কোভিড যুদ্ধের মতোই আমরা এই সংকটও কাটিয়ে উঠব। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে যাতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্র সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় (Supply Chain Disruption) যে বাধা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গ্যাসের কালোবাজারি (Gas Black Marketing) করা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও কড়া সতর্কবার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ যদি সংকটের সুযোগ নিয়ে বেআইনি মজুত বা কালোবাজারি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলিকেও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত (Middle East War) ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেই আবহে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহণে বড়সড় প্রভাব পড়ে। ইরান সাময়িকভাবে ওই সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতের জ্বালানি আমদানিতে ধাক্কা লাগে। যদিও পরে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলির জন্য আংশিকভাবে পথ খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক উভয় গ্যাসের দামই বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির জেরে দেশের নানা প্রান্তে হোটেল-রেস্তরাঁয় (Restaurant Business) সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় ব্যবসাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

অন্যদিকে, অতিরিক্ত গ্যাস মজুত রুখতে গ্যাস বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে রান্নার পদ্ধতিতেও। অনেকেই এখন বিকল্প হিসেবে ইনডাকশন চুলা ও বৈদ্যুতিন রান্নার সরঞ্জাম (Induction Cooktop) ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি (High-Level Committee) গঠন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। এছাড়াও রয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (S Jaishankar) এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri)। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার পথ খোঁজাই এখন এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য।