নিউজ পোল ব্যুরো: রান্নার গ্যাসের সঙ্কট এবার সরাসার আঘাত হানছে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়। বাণিজ্যিক গ্যাসের লাগামছাড়া দামবৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতির জেরে মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং ফাস্ট ফুডের ব্যবসায়ীরা কার্যত দিশেহারা। পর্যাপ্ত গ্যাস না মেলায় অনেক দোকানেই উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার বন্ধ রাখতে হচ্ছে ব্যবসা। খরচ সামাল দিতে বাধ্য হয়ে অনেকেই কর্মচারীর সংখ্যা কমানোর পথও বেছে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: LPG Crisis: ল্যাংচা–মিহিদানার পর সঙ্কটে জলভরা সন্দেশ, তবু বিকল্প জ্বালানিতে ঐতিহ্য বাঁচানোর চেষ্টা
উত্তর ২৪ পরগনার Barasat শহরের বড়বাজার সংলগ্ন একটি পুরোনো মিষ্টির দোকানে আগে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কেজি ছানা দিয়ে মিষ্টি তৈরি হত। দোকানের মালিক রজত বিশ্বাস জানান, আগে দিনে দু’টি করে গ্যাস সিলিন্ডার লাগত। কিন্তু এখন গ্যাসের জোগান কমে যাওয়ায় মাত্র ৩০ কেজি ছানার মিষ্টি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে দোকানের ১৮ জন কর্মীর মধ্যে এখন মাত্র ১০ জনকে রেখে কাজ চালাতে হচ্ছে। যদিও ব্যবসা ধরে রাখতে মিষ্টির দাম বা আকার এখনই বাড়াতে চান না তিনি। অন্যদিকে বারাসতের হেলাবটতলা এলাকায় রাস্তার ধারে তেলেভাজার দোকান চালান ধীরেন দাস। গ্যাস না পাওয়ায় টানা তিন দিন ধরে তাঁর দোকান বন্ধ। একই সমস্যায় পড়েছেন ফাস্ট ফুড ব্যবসায়ীরাও। বারাসতের বাসিন্দা বিমলা দাস জানান, গ্যাসের অভাবে তিনি এখন কেরোসিন ব্যবহার করছেন। তাতে খরচ বাড়ায় প্রতিটি খাবারের দাম গড়ে ৫ টাকা করে বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের মোয়া ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েছেন। মোয়া তৈরির মরশুম ভালো গেলেও এখন গ্যাসের অভাবে উৎপাদন অনেকটাই কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৮০-৯০ কেজি ছানা লাগত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০-২২ কেজিতে। এদিকে হাওড়া ও শ্রীরামপুর এলাকাতেও একই ছবি। তেলেভাজার দোকান থেকে ফাস্ট ফুডের স্টল-সব জায়গাতেই গ্যাসের অভাবের প্রভাব পড়েছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, বাজারে বাণিজ্যিক গ্যাসের কালোবাজারিও শুরু হয়েছে। ফলে বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে, নয়তো বন্ধ রাখতে হচ্ছে ব্যবসা। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ছোট ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
