LPG Crisis: ল্যাংচা–মিহিদানার পর সঙ্কটে জলভরা সন্দেশ, তবু বিকল্প জ্বালানিতে ঐতিহ্য বাঁচানোর চেষ্টা

জেলা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: চন্দননগরের নাম উঠলেই অনেকের মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে একটি বিশেষ মিষ্টির কথা- জলভরা সন্দেশ। এই মিষ্টিকে ঘিরে রয়েছে বহু বছরের ইতিহাস, কৌতূহল আর লোকমুখে প্রচলিত নানা গল্প। খাদ্যরসিকদের কাছে তাই জলভরা সন্দেশ শুধু একটি মিষ্টি নয়, বরং চন্দননগরের ঐতিহ্যের প্রতীক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক গ্যাসের সঙ্কট সেই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির উৎপাদনকে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তবুও পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে এই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগী হয়েছেন চন্দননগরের বিখ্যাত মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন:‘ভাগ্যের উপর ভরসা করলে চলবে না’, আইপিএলের আগে বৈভব সূর্যবংশীকে সতর্ক করলেন উথাপ্পা

চন্দননগরে প্রথম জলভরা সন্দেশ তৈরি করেছিলেন সূর্য মোদক, প্রায় ১৮১৮ সালে। তালশাঁসের মতো দেখতে এই বিশেষ সন্দেশের ভিতরে থাকে রস ভরা,আর বাইরে শক্ত পাকের মিষ্টি। একসময় এটিকে মজার ছলে ‘জামাই ঠকানো মিষ্টি’ও বলা হত। কারণ, বাইরে থেকে সাধারণ সন্দেশ মনে হলেও কামড় দিতেই ভিতরের রস বেরিয়ে পড়ত। সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি এই মিষ্টি অন্যান্য অনেক মিষ্টির তুলনায় বেশি দিন ভালো থাকে। দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জলভরার জনপ্রিয়তা আজও অটুট।

গ্যাস সঙ্কটে চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহে টান পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং মিষ্টির দোকানগুলিতে। অনেক প্রতিষ্ঠানই দৈনন্দিন উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ প্রস্তুতকারক সূর্য মোদকের বংশধর শৈবাল মোদক জানিয়েছেন, তাঁর কারখানায় মাসে প্রায় পাঁচটি কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখন একটি সিলিন্ডার দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে।

বিকল্প জ্বালানির পথে উদ্যোগ

গ্যাসের সঙ্কটের মাঝেও ঐতিহ্য বজায় রাখতে বিকল্প পথ খুঁজছেন উদ্যোক্তারা। শৈবাল মোদক জানান, গ্যাসের পরিবর্তে ডিজেল চালিত উনুন বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও এই পরিস্থিতিতে সব ধরনের মিষ্টি তৈরি করা সম্ভব নাও হতে পারে, তবুও জলভরা সন্দেশের উৎপাদন যেন বন্ধ না হয়, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

চন্দননগরের মানুষদের কাছেও জলভরা সন্দেশ শুধু একটি মিষ্টি নয়, শহরের পরিচয়ের অংশ। তাই ক্রেতাদেরও একটাই আশা- যে কোনও পরিস্থিতিতেই যেন এই ঐতিহ্যের স্বাদ অটুট থাকে।