নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেলবাহী জাহাজগুলিকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করানোর জন্য বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সেই আহ্বানে প্রায় এক সপ্তাহ পর সাড়া দিল ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশ।
বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি-সহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ এবং জাপান জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। যদিও যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কর্পস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তেলবাহী কোনও জাহাজ ওই প্রণালী দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলি ও জাপান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, তেল ও গ্যাসের পরিকাঠামোর উপর আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের পরিপন্থী। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।এদিকে মার্কিন অর্থসচিব Scott Bessent জানিয়েছেন, ইরানের তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে আমেরিকা। একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়ছে। তাই আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের তেলের উপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করতে পারে না এবং বিপুল পরিমাণ তেল জাহাজে মজুত করে রাখতে হয়। সেই তেল বাজারে ছাড়া হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট কিছুটা কমতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
