নিউজ পোল ব্যুরো: ব্রাজিলে মোদী যোগ দেবেন ব্রিকস সম্মেলনে (PM Modi in BRICS Summit)। তার আগে ঘানা সফর শেষ করে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পোর্ট অফ স্পেনে পৌঁছে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন ত্রিনিদাদ এবং টোব্যাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসর। সেখানেই মোদীর মুখে শোনা গেল ভারতের সঙ্গে তাঁদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্ক। কমলা প্রসাদ-বিসেসরকে ‘বিহার কি বেটি’ বলে সম্বোধন করেন। চলতি বছরে শেষে বিহারে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। তাই বিহারে গিয়ে ভোট অঙ্ককে কাজে লাগাতেই মোদীর এই সম্বোধন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ত্রিনিদাদ এবং টোব্যাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসর এবং সেদেশের একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী। রাজধানী পোর্ট অফ স্পেনে ৪ হাজার প্রবাসী ভারতীয়র উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় মোদী বলেন, “কমলাজির পূর্বপুরুষরা বিহারে বক্সারের বাসিন্দা ছিলেন। তাই সকলে তাঁকে ‘বিহার কি বেটি’ বলে সম্বোধন করেন। কমলাজি নিজেও বিহারে গিয়েছেন। এখানেও আজ যাঁরা বসে রয়েছেন তাঁদের অনেকেরই শিকড়ের টান রয়েছে বিহারের সঙ্গে।” অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানিয়ে প্রসাদ-বিসেসার বলেন, “আমরা এমন একজন নেতার দ্বারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত যার সফর কেবল প্রোটোকলের বিষয় নয় বরং আমাদের জন্য একটি গভীর সম্মান এবং তাই আমি বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত, সবচেয়ে প্রশংসিত দূরদর্শী নেতা, ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র মোদী জিকে স্বাগত জানাতে পেরে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান।” ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রশংসা করে মোদী বলেন, “তারা গঙ্গা ও যমুনাকে পেছনে ফেলে এসেছিল কিন্তু রামায়ণকে তাদের হৃদয়ে বহন করেছিল। তারা তাদের মাটি ছেড়ে এসেছিল কিন্তু তাদের আত্মাকে নয়। তারা কেবল অভিবাসী ছিল না, তারা ছিল একটি কালজয়ী সভ্যতার বার্তাবাহক। তাদের অবদান এই দেশকে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে উপকৃত করেছে।” ভারতীয় সম্প্রদায়কে “আমাদের গর্ব” বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমি প্রায়শই বলেছি, তোমাদের প্রত্যেকেই একজন রাষ্ট্রদূত, ভারতের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের দূত।”
এদিন প্রধানমন্ত্রী দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে তার পূর্ববর্তী সফরের কথাও স্মরণ করেন। বলেন, “আমি যখন শেষবার ২৫ বছর আগে গিয়েছিলাম… তখন এবং এখনকার মধ্যে, আমাদের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে। বেনারস, পাটনা, কলকাতা এবং দিল্লি ভারতের শহর হতে পারে, কিন্তু এখানে রাস্তার নামও রয়েছে। নবরাত্রি, মহাশিবরাত্রি এবং জন্মাষ্টমী এখানে আনন্দ, চেতনা এবং গর্বের সাথে পালিত হয়। আমি এখানে অনেক পরিচিত মুখের উষ্ণতা দেখতে পাচ্ছি। তরুণ প্রজন্মের উজ্জ্বল চোখে আমি কৌতূহল দেখতে পাচ্ছি, যারা একসাথে জানতে এবং বেড়ে উঠতে আগ্রহী। আমাদের বন্ধন ভূগোল এবং প্রজন্মের বাইরেও বিস্তৃত।” প্রসঙ্গত ত্রিনিদাদ এবং টোব্যাগো সফর শেষ করে ব্রাজিলে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে (PM Modi in BRICS Summit) যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নামবিয়া সফর সেরে ফিরবেন ভারতে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
