নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্য সভাপতির বাছাই পর্ব প্রায় শেষ। এবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP National President) বেছে নেওয়ার পালা। জেপি নাড্ডার আসনে কে বসবেন তা নিয়েই চর্চা চলছে বহুদিন থেকেই। সূত্র বলছে, বিজেপি পরবর্তী জাতীয় সভাপতি হিসেবে একজন মহিলাকে বেছে নিতে পারে। সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি রয়েছে আরএসএস-এর। যদি বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতির পদে কোনও মহিলা বসেন তাহলে এই পদক্ষেপ দলের জন্য ঐতিহাসিক প্রথম পদক্ষেপ হবে।
সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে বিজেপির জয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মহিলা ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিজেপির সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ডি. পুরন্দেশ্বরী এবং রাজ্য বিধানসভায় কোয়েম্বাটোর দক্ষিণের প্রতিনিধিত্বকারী বনথি শ্রীনিবাসন। বিজেপি বরাবরই নারীক্ষমতায়নে জোর দিয়েছে। মহিলা নেতৃত্ব এবং কৌশলগত সুবিধা উভয়কেই স্বীকৃতি দিয়ে আরএসএস দলের শীর্ষ পদে একজন মহিলাকে নিয়োগের ধারণাকে সমর্থন করেছে। রাজধানী দিল্লিতে তিন দিনের RSS-এর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে জেপি নাড্ডার মেয়াদ শেষ হয়েছে তবে লোকসভা নির্বাচনের জন্য ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নাড্ডার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।
বিজেপির নিয়ম অনুযায়ী, এক ব্যক্তি এক পদেই থাকতে পারেন। লোকসভার পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেপি নাড্ডাকে। তাই বিজেপির এক ব্যক্তি এক পদ নিয়ম মেনেই নাড্ডার উত্তরসূরী খোঁজার কাজ চলছে। এক নজরে দেখে নিন সম্ভাব্য নামগুলি…
১. নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman)
অরুণ জেটলির মৃত্যুর পর বিজেপি নেত্রী নির্মলা সীতারমণ ২০১৯ সাল থেকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বিজেপি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাঁকে অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সূত্র বলছে বিজেপি সভাপতি পদের জন্য অন্যতম দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন নির্মলা সীতারমণই কারণ তিনি দলের অন্যতম প্রভাবশালী মহিলা। তামিলনাড়ুতে তাঁর শিকড়ও বিজেপির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। এমনকি সম্প্রতি দলের সদর দপ্তরে জেপি নাড্ডা এবং বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের সঙ্গেও তিনি দেখা করেছেন। এখানেই শেষ নয় সংঘ পরিবারের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভাল। যদি তিনি বিজেপির সভাপতি হন সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে হবে অন্য কাউকে।
২. ডি পুরন্দেশ্বরী (D Purandeswari)
পূর্বে বিজেপির অন্ধ্রপ্রদেশ ইউনিটের প্রধান ডি পুরন্দেশ্বরীও জাতীয় সভাপতির পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে একজন। তিনি সরকারের অপারেশন সিন্দুর প্রতিনিধিদলেরও অংশ ছিলেন, যারা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইইউ, ইতালি এবং ডেনমার্কে দেশের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেছিল।
৩. বনথি শ্রীনিবাসন (Vanathi Srinivasan)
বনথি শ্রীনিবাসন বিজেপি মহিলা মোর্চার জাতীয় সভাপতির পদের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে, তিনি অভিনেত্রী এবং মাক্কাল নিধি মায়াম (এমএনএম) প্রতিষ্ঠাতা কমল হাসানকে পরাজিত করেন এবং তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর (দক্ষিণ) আসন থেকে জয়লাভ করেন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে বিজেপির সাথে যুক্ত এবং ২০২২ সালে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য হন।

একাধিক সূত্র বলছে, বিজেপি সাম্প্রতিক অতীতে মহিলা ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে সাফল্য দেখেছে, যা বর্তমানে একজন মহিলাকে দলের জাতীয় সভাপতির (BJP National President) পদে বসানোর একটি কারণ হতে পারে।
