নিউজ পোল ব্যুরো: নীল সমুদ্র, তুলোর মতো সাদা মেঘের ঘূর্ণি আর তার মাঝেই সবুজ আভায় ঝলমল মেরুজ্যোতি মহাকাশ থেকে পৃথিবীর এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করলেন চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেওয়া নভোচারীরা (Artemis II) । মানব ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনার পথে এগিয়ে চলা এই অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক মহাকাশযান, যা ইতিমধ্যেই পৃথিবী থেকে বহু দূরে পৌঁছে গিয়েছে। গত সপ্তাহে চার জন অভিজ্ঞ মহাকাশচারীকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করে এই মিশন। অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান। তার সঙ্গে রয়েছেন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হানসেন। মহাকাশ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রা শুরুর দেড় দিনের মধ্যেই তারা চাঁদের পথে প্রায় অর্ধেক দূরত্ব অতিক্রম করেছে (Artemis II)। এই সময়েই তারা মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর কিছু অসাধারণ ছবি তুলেছেন, যা ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে বিশ্বজুড়ে (Artemis II)।
প্রকাশিত ছবিগুলির মধ্যে একটি তুলেছেন ওয়াইসম্যান, যেখানে মহাকাশযানের জানালা দিয়ে আংশিক পৃথিবী দেখা যাচ্ছে। অন্য ছবিতে ধরা পড়েছে সম্পূর্ণ পৃথিবী নীল গ্রহের উপর ছড়িয়ে রয়েছে মেঘের সাদা স্তর, আর তার উপরে সবুজ রঙের অরোরার ঝলক যেন ছবিটিকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে (Artemis II)। মহাকাশ গবেষণা বিভাগের এক কর্তা জানিয়েছেন, এই ছবি শুধু চার নভোচারীর নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধিত্ব করে। প্রায় পাঁচ দশক পর আবার মানুষকে চাঁদের পথে পাঠানো হয়েছে, যা মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এক বড় পদক্ষেপ। এখনও চাঁদে পৌঁছতে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মাইল পথ বাকি রয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনা মতো চললে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছবে। তবে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে বিকল্প সময়ও নির্ধারিত রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না। বরং তারা চাঁদের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তার চারপাশে পরিভ্রমণ করবেন। মূল উদ্দেশ্য হল ভবিষ্যতের মানব মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা। পাশাপাশি মহাকাশযানের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, বিশেষ করে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করে পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা রয়েছে নভোচারীদের। এই মিশনের সাফল্য ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতির পথ আরও সুগম করবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
