Narendra Modi: ‘বিরোধিতা করলেই মাশুল দিতে হবে’, মহিলা সংরক্ষণ বিলে কড়া হুঁশিয়ারি মোদীর

দেশ

নিউজ পোল ব্যুরো: সংসদে মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে সামনে রেখে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে জোর সুরে বক্তব্য রাখলেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি এই সংশোধনী বিলকে “বিকশিত ভারতের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলকে এর পক্ষে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা ছিল, এই বিলের বিরোধিতা মানেই দেশের মহিলাদের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তিনি (Narendra Modi) বলেন, যারা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে, তাদের প্রতি দেশের নারীরা সহনশীল হবে না। তাঁর কথায়, “এখন সময় এসেছে স্পষ্ট করে বলার আপনি কি নারীদের পাশে, না তাঁদের বিপক্ষে?”

আরও পড়ুন: Lok Sabha Expansion: লোকসভার আসন বাড়ছে ৫০ শতাংশ, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হচ্ছে ২৭২টি আসন

এই ইস্যুতে তিনি বিশেষভাবে কংগ্রেসকে নিশানা করেন। অতীতে পঞ্চায়েত স্তরে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে সংসদে একই ধরনের উদ্যোগে আপত্তি কেন? তাঁর মতে, জাতীয় স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।প্রধানমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন, এই বিলের বিরোধিতা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পড়বে। তাঁর বক্তব্য চলাকালীন বিরোধী দলগুলির কিছু সদস্যের প্রতিবাদ ও হইচই দেখা গেলেও তিনি তা উপেক্ষা করে নিজের বক্তব্য জোরের সঙ্গে তুলে ধরেন।

সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এটি শুধুমাত্র একটি বিল নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই বিল কার্যকর হলে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে, যা দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।

এই বিলটি কার্যকর করতে গেলে জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি। অর্থাৎ, ২০১১ সালের পরবর্তী জনগণনার ভিত্তিতে নতুন করে আসন বিন্যাস করা হবে এবং তারপরই এই সংরক্ষণ বাস্তবায়িত হবে। ফলে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

বিরোধী দলগুলি মূলত এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। তাদের দাবি, বিল পাস হলেও যদি তা দ্রুত কার্যকর না হয়, তবে এর উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি, কিছু রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞ ‘ওবিসি মহিলাদের জন্য পৃথক সংরক্ষণ’ (sub-quota) রাখার দাবিও তুলেছেন, যা নিয়ে এখনও স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি সরকার। অন্যদিকে, এনডিএ সরকারের দাবি, এই বিল দেশের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াবে। গ্রামীণ স্তরে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় মহিলাদের সংরক্ষণ ইতিমধ্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole