নিউজ পোল ব্যুরো:রাজ্যে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন জল্পনা। বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই আবহেই সিপিআইএম লিবারেশনের (CPIM Liberation) একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/05/10/adhir-ranjan-attacks-mamata-over-opposition-alliance-appeal/
শনিবার কালীঘাটে রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মমতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিজেপিকে রুখতেই এখন সমস্ত বিরোধী শক্তির ঐক্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ভয় না পেয়ে বাংলার সমস্ত রাজনৈতিক বিরোধী দল যারা আছে, তাদের এক হওয়ার ডাক দিচ্ছি। জোট বাঁধুন, যৌথ মঞ্চ তৈরি হবে। আমার কোনও ইগো নেই। বিজেপিকে রুখতে হলে আমি বামেদেরও ডাক দিচ্ছি।”
তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যের পরদিনই সিপিআইএম লিবারেশনের (CPIM Liberation) তরফে একটি পোস্ট সামনে আসে। সেখানে দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, “গোটা দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী একটা বড় প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, ইন্ডিয়া জোট। সেখানে কংগ্রেস, তৃণমূল, বামপন্থীরা সবাই আছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সন্ত্রাস ও হিংসার বিরুদ্ধে আমরা প্রথম দিন থেকেই রাস্তায় আন্দোলন করছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাস্তায় নামুন। রাস্তাতেই সব বিরোধীদের দেখা হবে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এই পোস্ট সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি মমতার আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে লিবারেশন? যদিও মূল সিপিএম শিবির কিন্তু এই প্রস্তাবে একেবারেই আগ্রহী নয়। বরং তৃণমূল নেত্রীর মন্তব্যকে ঘিরে কটাক্ষের সুরই শোনা যাচ্ছে বাম মহলে।
ফলাফল ঘোষণার দিন মমতার “আমি হারিনি” মন্তব্য প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “উনি নিজে কি আদৌ বিরোধী বলে মনে করছেন? সেটা আমার জানা নেই। উনি তো নিজেই নিশ্চিত নন উনি বিরোধী না এখনও শাসক। বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের বদলে যারা প্রকৃত বিরোধী, তাদের মধ্যে ফাটল ধরাতেই উনি অভ্যস্ত।”
একই সুরে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন পানিহাটির সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্তও। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওদিনই প্রকৃত বিজেপি-বিরোধী ছিলেন না। উনিই বাংলায় আরএসএসের জমি তৈরি করেছেন। সারা দেশে একমাত্র বামেরাই প্রকৃত বিজেপি-বিরোধী শক্তি।” রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
