নিউজ পোল ব্যুরো:পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী শক্তির সম্ভাব্য সমীকরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলিকে একমঞ্চে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই বার্তাকে ঘিরেই কটাক্ষের সুর চড়ালেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan on Mamata Banerjee)।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/05/10/narendra-modi-convoy-explosive-scare-bengaluru/
রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে অধীরের দাবি, রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার সংকট থেকেই বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিতে বাধ্য হয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, “এখন দিদি বিপদের মুখে পড়েছেন বলেই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ করে সকলকে ডাকছেন। আগামী দিনে তাঁকে কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছেই হাতজোড় করতে হবে।” পাশাপাশি, বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য মমতার আহ্বান নিয়েও কটাক্ষ শানান তিনি। অধীরের বক্তব্য, ওই সময় কারা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান, সেটাই নাকি বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতা স্পষ্ট করে দেবে।
এদিন শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়, সরাসরি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রভাববলয়ের প্রশ্নেও তৃণমূল নেতৃত্বকে নিশানা করেন প্রাক্তন লোকসভা বিরোধী দলনেতা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মমতার ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সম্পত্তি নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন অধীর। অভিষেকের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-কে ‘সংগ্রহশালা’-র সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “ক্ষমতার শীর্ষে থাকলে কীভাবে প্রাসাদোপম অট্টালিকা গড়ে তোলা যায়, তা দেখতে এখন মানুষ ভিড় করছেন। খোকাবাবুর বাড়ি যেমন সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে, তেমনই খুব শীঘ্রই দিদির বাড়িও সংগ্রহশালায় রূপ নেবে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্বাচনের সময় থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলভাঙানোর চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন অধীর (Adhir Ranjan on Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি ছিল, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংস্থার কর্মীরা পরিচয় গোপন রেখে কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও বলিয়ে দিচ্ছিলেন। ভোটোত্তর পরিস্থিতিতে সেই অভিযোগের আবহেই আরও আক্রমণাত্মক সুরে তৃণমূলকে নিশানা করলেন বহরমপুরের কংগ্রেস নেতা।
অন্যদিকে, বিজেপিকে “প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ” আখ্যা দিয়ে সমস্ত অ-বিজেপি শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর লড়াইয়ে সকলের একত্রিত হওয়া প্রয়োজন। যদিও সেই আহ্বানকে গুরুত্ব না দিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রবীন্দ্রনাথের পংক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো…”।
তবে অধীরের এই ধারাবাহিক আক্রমণ এবং সম্পত্তি প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
