সামনেই ঈদ-উল-আজহা। তার ঠিক আগে গবাদি পশু হত্যা ও মাংস বিক্রি সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের নতুন বিধিনিষেধ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে এই নির্দেশিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতার পরিবেশ। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)।
আরও পড়ুন:Dilip Ghosh:‘সরকারি জমি দখল করলেই কড়া ব্যবস্থা’, বুলডোজার অভিযানে হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের!
চিঠিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) দাবি করেছেন, নতুন নিয়ম জারির পর রাজ্যের একাংশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির সহাবস্থানের জেলায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করা হোক।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চিঠির নেপথ্যে রয়েছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ সমীকরণ। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সংখ্যালঘু বিধায়ক নাকি নিজেদের এলাকার মানুষের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনও সদর্থক উদ্যোগ না মেলায় তাঁদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপরই তাঁরা অধীর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
তৃণমূলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, গত ১৩ মে রাজ্য সরকারের পশুহত্যা সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশের পর থেকেই মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কয়েক জন বিধায়ক বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁরা পরিষদীয় দলে এই নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। কিন্তু দলের তরফে স্পষ্ট অবস্থান না আসায় ক্ষোভ আরও বাড়ে।
সূত্রের দাবি, এক প্রবীণ তৃণমূল নেতার সঙ্গে এক সংখ্যালঘু বিধায়কের কথোপকথন নিয়েও এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। ওই বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তাঁকে জানানো হয়, দলনেত্রীর নির্দেশের অপেক্ষা করতে হবে। এরপরই ক্ষুব্ধ বিধায়ক প্রশ্ন তোলেন, সব বিষয়ে যদি শুধু শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষা করতে হয়, তবে পরিষদীয় দলের ভূমিকা কোথায়?
এরপরই কয়েক জন বিধায়ক গোপনে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের তরফে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
উল্লেখ্য, বিজেপি সরকার সম্প্রতি ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন মেনে গবাদি পশু হত্যা ও মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে একাধিক নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন বিধি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া গবাদি পশু জবাই করা যাবে না। পাশাপাশি ১৪ বছরের কম বয়সি গবাদি পশু হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাংস কাটার ক্ষেত্রেও স্থানীয় প্রশাসন বা প্রাণিসম্পদ দফতরের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অধীর চৌধুরী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গ বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি ও বহু ধর্মীয় ঐতিহ্যের মিলনভূমি। তাই প্রতিটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি পালনের অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি জেলা প্রশাসনকে নির্দিষ্ট কিছু স্থান চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়েছে, যেখানে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারবেন।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, অধীর চৌধুরীর চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার এই বিধিনিষেধে কোনও শিথিলতা আনবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। অন্যদিকে, তৃণমূলের একাংশ বিধায়কের এই অবস্থান প্রকাশ্যে আসায় শাসকদলের অন্দরেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
