Agnimitra Paul:নো পার্কিং জোনে গাড়ি রাখলেই ৫০০ টাকা জরিমানা, ভুয়ো পার্কিং স্লিপ রুখতে কড়া নির্দেশিকা অগ্নিমিত্রার!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:মহানগরে বেআইনি পার্কিং ও ভুয়ো পার্কিং স্লিপের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা রুখতে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে প্রশাসন। শহরের নির্দিষ্ট পার্কিং জোনের বাইরে রাস্তায় গাড়ি রাখলেই দিতে হবে ৫০০ টাকা জরিমানা—এমনই কড়া নির্দেশিকা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে পার্কিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে একাধিক নতুন নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন রাজ্যের নবনিযুক্ত পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল (Agnimitra Paul)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কলকাতায় যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দ্রুত নোটিস জারি করে রাস্তার ধারে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে পার্কিংয়ের অনুমতি নেই, সেখানে কোনো অবস্থাতেই গাড়ি রাখা যাবে না বলে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:Shamik Bhattacharya:‘একেন বাবুর মাথায় চুল গজালেও তৃণমূল আর ফিরবে না’, তীব্র কটাক্ষ শমীকের!

মন্ত্রী (Agnimitra Paul) আরও জানিয়েছেন, শহরের পার্কিং ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা বিশৃঙ্খলা দূর করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের তরফে শহরের ২৭টি ট্রাফিক গার্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ পার্কিং চিহ্নিত করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। পুরসভা অনুমোদিত নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি পার্ক করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভুয়ো পার্কিং স্লিপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। অগ্নিমিত্রা পল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া পার্কিং ফি সংগ্রহ সম্পূর্ণ বেআইনি। ভুয়ো স্লিপের মাধ্যমে টাকা তোলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

নতুন নির্দেশিকায় শহরের পার্কিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ওয়ান লেন পার্কিং’ ব্যবস্থা চালু করা, যেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এক লাইনে গাড়ি রাখতে হবে। পাশাপাশি পার্কিং এলাকার সীমা, সময় এবং ফি সংক্রান্ত তথ্য বড় ও স্পষ্ট অক্ষরে ডিসপ্লে বোর্ডে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই সব তথ্য জানতে পারেন।

এছাড়া পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের জন্য ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে ভুয়ো পার্কিং কর্মীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন। প্রশাসনের মতে, এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং রাস্তায় যান চলাচল অনেকটাই মসৃণ হবে।

প্রশাসনিক মহলের দাবি, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণই নয়, বরং শহরের পার্কিং ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় সংস্কার হিসেবে কাজ করবে। সাধারণ মানুষও ভুয়ো পার্কিং চার্জ ও হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।