Khudiram Tudu:‘আদিবাসী উন্নয়নের টাকা অন্য প্রকল্পে খরচ’, মমতার বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ রাজ্য মন্ত্রীর!

Uncategorized

নিউজ পোল ব্যুরো:পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে আদিবাসী উন্নয়নের টাকা নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বর্তমান আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু (Khudiram Tudu)। রবিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেন, আদিবাসী উন্নয়ন তহবিলের টাকা ব্যবহার করে ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পে সাইকেল বিলি করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:Payel Sarkar: “বহু অনুষ্ঠানে ডাকই পেতাম না, লুকসেটে যাওয়ার আগেই বাদ পড়েছি”: টলিউড নিয়ে বিস্ফোরক পায়েল

ক্ষুদিরাম টুডুর (Khudiram Tudu) বক্তব্য, “এটা তৃণমূলের হাতের এক। আমরা অঙ্ক কষি না, হাতের এক! সংখ্যালঘু বিভাগটা তৃণমূলের হাতের এক ছিল। সেই কারণেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু—দুই বিভাগই নিজের কাছে রেখেছিলেন।”

মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আদিবাসী উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ সাধারণ প্রকল্পে খরচ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “ভাবতে অবাক লাগে, আদিবাসী উন্নয়নের টাকা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ‘সবুজ সাথী’র সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। আমি আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। আদিবাসী উন্নয়নের টাকা কেন সর্বসাধারণের প্রকল্পে ব্যবহার হবে?”

এখানেই থামেননি ক্ষুদিরাম। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও রেহাই পাবেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও দোষী প্রমাণিত হলে জেলে যেতে হবেই। আইএএস, আইপিএস বা ছোট-বড় কেউ রেহাই পাবে না।”

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, তোলাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসছে। হুগলির বৈদ্যবাটিতে সরকারি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জমিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম গুঁই-এর জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ব্যক্তিগত শরীরচর্চা কেন্দ্র থেকে কুকুর রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে দাবি বিজেপির। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিংহ। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অরিন্দম গুঁই।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

এছাড়াও, তোলাবাজি, হুমকি ও মারধরের অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বৈদ্যবাটি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর রাজু পাড়ুই-কে। একইভাবে, কৃষ্ণনগর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সরজিৎ বিশ্বাস-ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। হুগলির পঞ্চায়েত প্রধান ও তৃণমূল নেতা রাজদীপ দে-কেও তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতারা।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে দিনহাটা পুরসভায় বেআইনিভাবে বহুতল নির্মাণের নকশা পাশ করানোর অভিযোগেও দুর্নীতির মামলা সামনে আসে। সেই ঘটনায় নাম জড়ায় পুরসভার কর্মী ও তৃণমূল নেত্রী মৌমিতা ভট্টাচার্য-র। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।