নিউজ পোল ব্যুরো:আগামী ২১ মে ফলতায় বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন। তার আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। শনিবারই ফলতার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই, রবিবার ফলতার নির্বাচনী জনসভা থেকে একের পর এক ‘বোল্ডআউট’ বার্তা দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।
আরও পড়ুন:Adhir Ranjan Chowdhury:পশুহত্যা বিধি ঘিরে মুর্শিদাবাদে অস্থিরতা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি অধীরের
তাঁর রবিবাসরীয় বক্তৃতার আগাগোড়াই ছিল আত্মবিশ্বাসে ঠাসা, যেখানে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে বঙ্গে সদ্য ঘটা রাজনৈতিক পালাবদলের ছবি। তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘অতীত’ আখ্যা দিয়ে শমীকবাবু এদিন ফলতাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, নতুন জমানায় এবার মানুষ প্রাণ ভরে শ্বাস নিন। সেই সঙ্গেই চিরপরিচিত ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিমায় একের পর এক তীক্ষ্ণ বাণ ছুড়ে দেন বিরোধী শিবিরের উদ্দেশ্যে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে ইতিমধ্যেই বাংলার মসনদ দখল করেছে বিজেপি। বাকি থাকা একমাত্র আসনটিতেও জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ নিশ্চিত গেরুয়া শিবির।
ফলতার সভা থেকে শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) দাবি করেন, বাংলার মানুষ তৃণমূলকে চিরতরে নির্বাসিত করেছে। জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র একেন বাবুর মাথায় চুল গজালেও গজাতে পারে, তবু তৃণমূল আর এ রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। একদা তৃণমূলের ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও এবার পদ্ম ফুটেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ডায়মন্ড হারবারে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছে বিজেপি কর্মীরা। আগের সরকারের আমলে নেতা-নেত্রী-মন্ত্রী আর পুলিশ-প্রশাসন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল, আজ সেই দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। ভোটের প্রচারে নেমে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে বারবার শোনা গিয়েছিল হুঁশিয়ারির সুর। আরামবাগের দলীয় প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগে গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেছিলেন, ৪ তারিখ রাত ১২টার পর তিনিও দেখে নেবেন কার কোন দিল্লির বাবা কাকে বাঁচায় এবং রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে ডিজে বাজবে সেদিন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ উল্টো। সেই ডিজে-হুঁশিয়ারিকে কটাক্ষ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এখানকার এক নেতা অমিত শাহকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ৪ তারিখ রাত বারোটার পর ডিজে বাজাবেন বলে। এখন তিনি কোথায়? এখন ডিজের বদলে তৃণমূল নেতাদের ঘরে ঘরে বিষাদের হারমোনিয়াম বাজছে। এখানেই থামেননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি। নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বীর’ সম্বোধন করে চরম উপহাসের সুরে তিনি বলেন, “তোমাকে আমরা খুব মিস করছি, তুমি এসো। এরকম করে না, একটু তো অন্তত সামনে এসো!” জনরোষের ভয়ে এখন বিদায়ী জমানার মন্ত্রী-সান্ত্রীরা মুখ লুকানোর জায়গা পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের ওই বিদায়ী সাংসদকে লুকিয়ে না থেকে বরং একবার দিল্লি গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে আসার পরামর্শ দেন শমীকবাবু। ২১ মে ফলতার ভোটগ্রহণ, আর তার আগে শমীক ভট্টাচার্যের এই ঝাঁঝালো আক্রমণ যে ভোটের আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।
