নিউজ পোল ব্যুরো:ফলতা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একসময় ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফলতায় তৃণমূলের ভরাডুবিকে হাতিয়ার করে বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক কটাক্ষ ছুড়ে দেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রবিবার ঘোষিত পুনর্নির্বাচনের ফলাফলে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক চিত্র সামনে আসে। শুধু পরাজয়ই নয়, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান চতুর্থ স্থানে শেষ করেন, যা শাসক দলের জন্য নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন:Dilip Ghosh:“অস্তিত্বহীনতার পথে যাচ্ছে দল” তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের!
প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে ফলতার একাধিক বুথে ইভিএমে সেলোটেপ লাগানোর অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে নির্বাচন কমিশন ওই এলাকায় পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন, “দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। দিল্লি থেকে যত শক্তিশালী নেতাকেই আনা হোক না কেন, ক্ষমতা থাকলে ফলতায় লড়ে দেখাক।” কিন্তু পুনর্নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari। তিনি লেখেন, *“কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল আজ পরিণত হয়েছে ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে।”* বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য ফলতার ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রভাব, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং ভয়ভীতির সংস্কৃতির উপর ভর করেই তৃণমূল রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রেখেছিল। ক্ষমতার ভিত্তি দুর্বল হতেই সেই কাঠামোর প্রকৃত চেহারা প্রকাশ্যে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিনের পোস্টে নামোল্লেখ না করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’ আখ্যা দিয়ে শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি সংগঠিত অপরাধচক্রকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
তাঁর দাবি, অতীতের নির্বাচনী ফলাফল প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ছিল না; বরং ভোটদানের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার পর ফলতার মানুষ তাদের প্রকৃত মতামত প্রকাশ করেছেন। শুধু বর্তমান ফলাফল নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও তৃণমূলকে সতর্কবার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে এবং আগামী দিনে দলটির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে ‘নোটা’। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ‘নোটা’-র কাছেও পরাজিত হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কটাক্ষ, পশ্চিমবঙ্গেও একসময় তৃণমূল ও ‘নোটা’-র মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্যের মানুষ। ফলতা উপনির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষত ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের পাল্টাপাল্টি দাবি-প্রতিদাবি বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
