Mamata Banerjee:“যিনি রাজশাসন করছেন, তাঁর ওই চেয়ারে বসার অধিকার নেই” ২০ দিন নীরবতা ভেঙে শুভেন্দুকে নিশানা মমতার!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফের একবার তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নাম উল্লেখ না করলেও পরোক্ষে তিনি নিশানা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে। ফলতা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন সমাজমাধ্যমে এবং জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ভোট-প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস—এই তিনটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “হারের জায়গায় জেতা, জেতার জায়গায় হারা”—এই বিপর্যয়কর অঙ্ক পরিবর্তিত হয়েছে প্রায় দেড়শো আসনে, যার ফলেই প্রকৃত জনরায় বিকৃত হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর মতে, যদি এই ‘পাশা উল্টানো’ প্রক্রিয়া না ঘটত, তবে তৃণমূল কংগ্রেস ২২০ থেকে ২৩০ আসন পর্যন্ত অর্জন করত।

আরও পড়ুন:Suvendu Adhikari:‘বাংলায় তৃণমূলের আসল প্রতিদ্বন্দ্বী নোটা’ ফলতার ফল বেরতেই ভবিষ্যদ্বাণী মুখ্যমন্ত্রীর!

পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের ফলাফল নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন এবং ইভিএম ও ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানান। প্রশাসনিক স্তরে বিরোধী দলের প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধি, কাউন্সিলর ও কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতারি অভিযান চালানো হচ্ছে, বহু দলীয় কার্যালয় দখল ও ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রায় দুই হাজার পার্টি অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আরও বলেন, ভোট-পরবর্তী কুড়ি দিন তিনি নীরব থাকলেও সেই সময়কালজুড়ে দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষ “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের” শিকার হয়েছেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত বোর্ড ও পুরসভাগুলিকে কার্যত অচল করে দেওয়া হচ্ছে, উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুনরায় দাবি করেন যে সেখানেও ভোটপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, রাজ্যের শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে পূর্ববর্তী সরকারের প্রকল্পগুলিকে নাম বদলে পুনরায় চালানো হচ্ছে এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিএ ও সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্যতা নিয়েও তিনি বর্তমান সরকারের অবস্থানকে কটাক্ষ করেন। সব মিলিয়ে, ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপ আরও তীব্র করে তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান, যার পাল্টা প্রতিক্রিয়া রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আবহ তৈরি করেছে।