বাংলার নব বৃন্দাবন ধাম মায়াপুরে পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিরবাছনি প্রচারের সময় এই মায়াপুরেই সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনে আসেন অমিত শাহ। বরাবরই পদ্ম শিবিরের সঙ্গে সু সম্পর্ক বজায় রেখে চলে শ্রীধাম মায়াপুর। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মায়াপুরের মাটিতে পা দিয়েই করলেন গো-মাতার বিশেষ পুজো। এই পুজ ঘিরেই এখন জর জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে। ঈদের দিনে মায়াপুর যাওয়া, গো পূজন, ঘটনাটা কাকতালীয় হলেও বিশেষ বার্তা বহ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঈদের দিনে শুভেন্দু অধিকারীর গো সেবা, গোশালা পরিদর্শন করে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও জানা গিয়েছে, ইস্কন কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণেই এদিন সকালে মায়াপুরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাওড়ার ডুমুরজলা থেকে হেলিকপ্টারে রওনা দিয়ে সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ তিনি মায়াপুরে নামেন। ইস্কনের সন্ন্যাসী ও ভক্তরা তাঁকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে স্বাগত জানান। মন্দির দর্শনের পর তিনি সরাসরি যান গোশালায়। সেখানে গরুকে ঘাস খাওয়ানো থেকে শুরু করে গো সেবার নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুক্ষণ গোরুর মাঝে দাঁড়িয়ে তাদের পরিচর্যার বিষয়েও খোঁজ-খবর নেন। এরপর তিনি মায়াপুরের মূল চন্দ্রোদয় মন্দিরে গিয়ে বিশেষ পুজো ও যজ্ঞানুষ্ঠানে যোগ দেন। পাশাপাশি ইস্কনের সাধুসন্তদের সঙ্গে বৈঠকেও বসেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই সফর ঘিরে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যায়। ইস্কনের সন্ন্যাসী ও ভক্তরা তাঁকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে স্বাগত জানান। আর মন্দির দর্শনের পরেই তিনি সোজা চলে যান গোশালায়।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মায়াপুর শুধু বাংলার নয়, গোটা বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। এখানে এসে এক অন্যরকম শান্তি পাওয়া যায়। গো সেবা আমাদের সংস্কৃতি, মানবিকতা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। গরুকে রক্ষা করা মানে কৃষক ও গ্রামের মানুষকে শক্তিশালী করা। সব ধর্মের মানুষ নিজেদের উৎসব পালন করবেন, এটাই ভারতের ঐতিহ্য। তবে নিজের শিকড়, নিজের সংস্কৃতি ও সনাতনী ঐতিহ্যকেও সম্মান করতে হবে। বাংলা আবার তার সংস্কৃতির গৌরব ফিরে পাবে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ মায়াপুরে আসেন, ইস্কন যেভাবে ধর্মের পাশাপাশি মানবসেবার কাজ করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এখানে এসে মানুষের জন্য কাজ করার আরও অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।”
ঈদের দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এমন কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কটাক্ষের সুর বিরোধী শিবিরে। কারও দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। এদিকে সমর্থকদের মতে, সব ধর্মকে সম্মান করেই নিজের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মায়াপুরে শুভেন্দুর এই সফরে নিরাপত্তাও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন গোটা কর্মসূচিতে। বহু সাধারণ মানুষও মুখ্যমন্ত্রীকে একঝলক দেখতে মন্দির চত্বরে ভিড় জমান। বিশেষ করে ঈদের মতো দিনে গো সেবার ছবি সামনে আসায় তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনা বেড়েছে আরও।
