কর্ণাটক থেকে পাকড়াও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু , চুরির দায়ে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না

breakingnews রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ক্ষমতা হারানোর পর শ্রীঘরে যাচ্ছেন একের পর এক তৃণমূলের প্রাক্তন নেতারা। এবার ধনেখালির একটি বিএড কলেজে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুতের অভিযোগে বড়সড় চাঞ্চল্য ছড়াল। ধনেখালি থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে কর্ণাটক থেকে গ্রেফতার করা হল তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়কে।

গত ১১ই জুন ধনেখালিতে রামেন্দুর নিজের বাড়ির পাশে থাকা এক রাজকীয় বিএড কলেজে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। সেই কলেজের গোপন গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় কুইন্টাল কুইন্টাল সরকারি ত্রাণের ত্রিপল এবং সরকারি প্রকল্পের দামি খেলার বল। আমজনতার জন্য বরাদ্দ জিনিস নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে লুকিয়ে রাখার এই মারাত্মক খবর ছড়াতেই এলাকা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। চুরির মামলা হতেই এবং তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া মাত্রই নিজের ফোন বন্ধ করে রাতারাতি রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছিলেন রামেন্দু। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ধনেখালি থানার পুলিশ আধুনিক সাইবার সেলের সাহায্য নিয়ে রামেন্দু সিংহরায়ের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করতে শুরু করে। সুদূর কর্ণাটকে তাঁর গোপন আস্তানার হদিশ মিলতেই ওত পেতে থাকা পুলিশের টিম সেখানে পৌঁছে তাঁকে সোজা খাঁচায় বন্দি করে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হলেও, ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সন্তু পানের কাছে গোহারান হেরেছিলেন রামেন্দু। শুধু ত্রাণ চুরিই নয়, ভোটের প্রচারে বিজেপির ওপর রক্তাক্ত হামলা চালানো, তোলাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার একাধিক মারাত্মক অভিযোগ ঝুলে ছিল এই নেতার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার দাপট কমতেই নিজের তৈরি স্কুলেই চুরির মাল সহ ধরা পড়া এবং ওড়িশা-কর্ণাটক ঘুরে শেষমেশ পুলিশের খাঁচায় বন্দি হওয়া তৃণমূলের জন্য এক মস্ত বড় লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সকলের নজর আদালতের দিকে। তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই দেখার।