কার নির্দেশে সেদিন আরজি করে চলেছিল প্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার ছক? বিনীত গোয়েল সহ শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের সিবিআই তলবে ঘুম উড়ল জোড়াফুলের!

breakingnews অপরাধ রাজনীতি রাজ্য শহর

নিউজপোল ব্যুরো: এতদিন পর যেন আবার খুলে গেল সেই বহুচর্চিত ফাইল। প্রমাণ লোপাট আর সত্য ধামাচাপা দেওয়ার তৃণমূলী চক্রান্ত কি এবার পুরোপুরি ফাঁস হতে চলেছে? একের পর এক আইপিএস (IPS) অফিসারকে সিজিইউ (CGO) কমপ্লেক্সে তলব করে তদন্তে নতুন গতি আনল সিবিআই, যা দেখে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতাদের। শুক্রবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতরে পৌঁছতে শুরু করেছেন একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক। ফলে আবারও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং শাসকদলের অস্বস্তি

সূত্রের খবর, প্রাক্তন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল সিবিআই দফতরে হাজির হয়েছেন। যার পদত্যাগের দাবিতে গোটা রাজ্যজুড়ে জুনিয়র ডাক্তাররা দিনের পর দিন আন্দোলন করেছিলেন, সেই মমতার ‘প্রিয়’ পুলিশ কর্তাকে অবশেষে সিজিও কমপ্লেক্সে ঢুকতে হয়েছে। পাশাপাশি তলব করা হয়েছে তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা—যাঁর বিরুদ্ধে নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল—এবং তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। তাঁদের বক্তব্য রেকর্ড করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই পুলিশ কর্তারা কার নির্দেশে ক্রাইম সিন ভাঙচুর করেছিলেন এবং কার ইশারায় তড়িঘড়ি দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই আসল রাজনৈতিক মাথাদের নাম জানতে তদন্ত করছে  সিবিআই। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত মহলের দাবি, ঘটনার পর বিভিন্ন তথ্য গোপন এবং তদন্তে গাফিলতির আড়ালে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের কী ভূমিকা ছিল, তা এবার নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই একের পর এক পুলিশ আধিকারিককে ডেকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। এর আগে তৃণমূলের প্রভাবশালী বিধায়ক তথা আরজি করের থ্রেট কালচারের অন্যতম পান্ডা নির্মল ঘোষকেও তলব করেছিল সিবিআই। এবার পুলিশ কর্তাদের জেরা করে সেই প্রভাবশালীদের যোগসূত্র সম্পূর্ণ স্পষ্ট করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

২০২৪ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় এক তরুণী চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যুর পর ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসতেই যেভাবে রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসন অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল, তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। ক্ষমতার দাপট আর আইনি প্যাঁচ খাটিয়ে এতদিন যারা পার পেয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন, বিনীত গোয়েলের সিবিআই দফতরে ডাক পড়া প্রমাণ করছে যে তদন্তের জাল এবার কতটা পোক্তভাবে বিছানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই— বিনীত গোয়েল, অভিষেক গুপ্তাদের মুখ থেকে কি এবার সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নাম বেরিয়ে আসবে? আরজি কর কাণ্ডে কি এবার কোনো বড় মাথার দিকে এগিয়ে যাবে সিবিআইয়ের জাল? রাজ্যজুড়ে এখন সেই দিকেই নজর।