নিউজ পোল ব্যুরো:পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের (Durgapur) সুভাষপল্লীতে বেআইনি মদের কারবারকে কেন্দ্র করে রবিবার রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিজেপির ওবিসি মোর্চার নেতা স্বাধীন রায়।
আরও পড়ুন:Hilsa: ইলিশের স্বাদে নতুন চমক! বরিশালের কায়দায় বানিয়ে ফেলুন ইলিশ ভুনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ টাউনশিপ থানার অন্তর্গত সুভাষপল্লী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক বাড়িতে বেআইনি মদের ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এই কারবারের জেরে সামাজিক অস্থিরতা ও পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অভিযোগের তির উঠেছে শেখ বিড়লি নামে এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রবিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এলাকায় পৌঁছন স্বাধীন রায়। অভিযোগ, তিনি দলীয় সমর্থকদের নিয়ে কয়েকটি সন্দেহভাজন জায়গায় যান এবং সেখানে মদের বোতল দেখতে পান। ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তিকে সতর্ক করতে দেখা যায় তাঁকে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই এলাকায় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্বাধীন রায়ের দাবি, ভোটের আগে এলাকায় সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ভোটের ফল প্রকাশের পর অভিযুক্তদের একাংশ এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখনও বেআইনি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
বিজেপি নেতার আরও দাবি, যাঁরা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁরা বিকল্প জীবিকার পথ বেছে নিতে চাইলে তাঁদের সহযোগিতা করা হবে।
ঘটনাস্থলে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিজেপি নেতা ও তাঁর সমর্থকদের বচসা হলেও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এলাকার একাংশের বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি মদের কারবারের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। ফলে রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।ঘটনার বিষয়ে নিউ টাউনশিপ থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সুভাষপল্লীর (Durgapur) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেআইনি মদের কারবার, স্থানীয় ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা—এই তিনটি বিষয়ই এখন দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
