নিউজ পোল ব্যুরো:রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনা আরও তীব্র হল। এবার দলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন (Mosharaf Hossain resignation)। রবিবার ইটাহারের জয়হাট চেকপোস্ট সংলগ্ন নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:Durgapur:বেআইনি মদের ঠেকে বিজেপি নেতার অভিযান, সুভাষপল্লীতে চাঞ্চল্য!
যদিও পদত্যাগের নেপথ্যে পারিবারিক কারণকেই সামনে এনেছেন মোশারফ। তাঁর দাবি, সম্প্রতি মক্কা থেকে ফিরে আসার পর তাঁর মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সেই কারণে সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই তিনি সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই কালীঘাটে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোশারফ হোসেন (Mosharaf Hossain resignation) বলেন, “রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আগের মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার উপর মা অসুস্থ। গত কয়েকদিন ধরে বিধানসভাতেও যেতে পারছি না। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সেলের দায়িত্বে থাকা সমীচীন বলে মনে করছি না।”
উল্লেখ্য, নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে শুক্রবার। ওই দিন বিধানসভায় অনুপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন। এরপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি ছিল, কালীঘাটের তৃণমূল শিবির থেকে ক্রমশ দূরত্ব বাড়িয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ইটাহারের বিধায়ক।
রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে সেই জল্পনায় কার্যত সিলমোহর দেন মোশারফ। তিনি স্বীকার করে নেন, ঋতব্রতপন্থী শিবিরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।
মোশারফ হোসেন বলেন, “বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী একসময় আমাদের দলের হয়ে এই জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। এলাকার উন্নয়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
রাজ্যের ক্ষমতায় বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কালীঘাটের মূল শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একাংশের নেতা-নেত্রী ইতিমধ্যেই ঋতব্রত শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন।
উত্তর দিনাজপুর জেলার পাঁচ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে চার জন আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মোশারফ হোসেনের পদত্যাগ এবং তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান কালীঘাটের শিবিরের জন্য নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
