Adhir Ranjan Chowdhury:‘রাজনৈতিক সুরক্ষার জন্যই আলাদা শিবির’, তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বে কটাক্ষ অধীরের!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং দলত্যাগের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। রবিবার তিনি দাবি করেন, শাসকদলের অন্দরে বর্তমানে একাধিক গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে এবং বিদ্রোহী নেতাদের প্রতি বিজেপির মনোভাব ‘করোনা আক্রান্ত রোগী’র মতো। অধীরবাবুর কথায়, ‘‘তৃণমূল এখন বিভিন্ন শিবিরে বিভক্ত। একটি অংশ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা রাখছে। অন্য একটি গোষ্ঠী বিজেপিতে যোগদানের চেষ্টা করলেও, বিজেপি তাদের গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক। কারণ, বিজেপি তাদের কোভিড রোগী কিংবা করোনা ভাইরাসের মতো দেখছে। সেই কারণেই তাদের তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’’

আরও পড়ুন:Narendra Modi Red Road:আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডে নজিরবিহীন সমাবেশ, কলকাতাবাসীকে ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর!

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নাম উল্লেখ না করলেও অধীর রঞ্জন চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) এই মন্তব্যের নিশানায় রয়েছেন সম্প্রতি দলবদল করা কয়েকজন সাংসদ। পাশাপাশি, দলের অভ্যন্তরে পৃথক গোষ্ঠী গড়ে তোলা নেতাদের বিরুদ্ধেও তিনি পরোক্ষে আক্রমণ শানিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলে কোনও প্রকৃত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি করেন অধীরবাবু। তাঁর অভিযোগ, ‘‘নিজেদের রাজনৈতিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই কিছু নেতা আলাদা শিবির গড়ে তুলেছেন। কারণ, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা, রাজনৈতিক আক্রমণ কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশঙ্কা কমে যায়।’’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি এই নেতাদের নিজেদের দলে নিতে আগ্রহী নয়। কারণ, তাদের আশঙ্কা— এই নেতাদের গ্রহণ করলে রাজনৈতিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে তারা কার্যত ‘কোভিড আক্রান্ত’ বলেই বিবেচনা করছে।’’

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

একইসঙ্গে অধীর চৌধুরীর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক বিজেপিতে যোগদানের জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। তবে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। অধীরবাবুর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং বিরোধী শিবিরের কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।