নিউজপোল ব্যুরো: বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলার তথা মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল সম্পত্তি রাখার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তাঁর এই হাজতবাসের খবরে সবথেকে বেশি স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে বাগুইআটি এলাকার এক ব্যবসায়ীর ঘরে। দেবরাজের গ্রেপ্তারের খবর পেতেই নিজের খুশির কথা লুকিয়ে রাখেননি স্থানীয় প্রোমোটার কিশোর হালদার।
এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিশোর হালদার জানান, দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারের খবর শুনে তিনি স্বস্তি অনুভব করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। সেই কারণেই এই ঘটনাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কিশোর হালদারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর কয়েকজন অনুগামী তাঁর উপর হামলা চালান। সেই ঘটনায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি চিকিৎসাও করান বলে দাবি করেছেন। ওই ঘটনার পর তিনি আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলেও জানান।
প্রোমোটারের কথায়, সেই সময় তিনি ভয় ও চাপের মধ্যে ছিলেন। তবে বর্তমানে আইন নিজের কাজ করছে বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তদন্তে সমস্ত বিষয় সামনে আসবে এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
এতদিন যারা ক্ষমতার গরমে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন, আজকের দিনটা তাদের জন্য একটা বড় শিক্ষা। আক্রান্ত প্রোমোটার কিশোর হালদারের চোখের জল আজ হয়তো শুকিয়েছে, কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল— ক্ষমতার দাপট চিরকাল থাকে না, কিন্তু অন্যায়ের বিচার ঠিকই হয়।
