নিউজপোল ব্যুরো: বারুইপুরের নাবালিকা নিগ্রহ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের তৎপরতায় ধরা পড়ল আরও এক অভিযুক্ত। বসিরহাট থেকে কবীর মোল্লা নামে চতুর্থ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর থানার স্পেশাল অপারেশন টিম ও এসটিএফ (STF)। এই মামলার তদন্তে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে।
এক কুখ্যাত অপরাধী ইতিমধ্যেই এনকাউন্টারে খতম, আর বাকি তিন জল্লাদ এখন পুলিশের লক-আপে থরথর করে কাঁপছে। কিন্তু কীভাবে এই চতুর্থ পাণ্ডার হদিস পেল পুলিশ? তদন্তে নেমে পুলিশ ওই এলাকার ‘মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ডাম্প’ করতেই চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের! দেখা যায়, ঘটনার দিন অর্থাৎ শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই একসঙ্গে অ্যাক্টিভ ছিল প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার, আনন্দ সর্দার এবং এই কবীর মোল্লার মোবাইল টাওয়ার। আর এই অকাট্য প্রমাণ মিলতেই পুলিশ নিশ্চিত হয়ে যায় যে, নাবালিকার ওপর নারকীয় অত্যাচারের সময় সেখানে এই চারজনই উপস্থিত ছিল।
পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠা চরম ভায়োলেন্ট তথ্য। ঘটনার দিন আগে থেকেই সেখানে ওত পেতে বসেছিল আনন্দ ও দিবাকর। মেয়েটি সেখান থেকে কোনোমতে পালিয়ে বাঁচতে চাইলে, পশুর মতো তার হাত দুটি পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলা হয়। নিষ্পাপ শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতেই তার ঘাড়ে সজোরে আঘাত করে নরপিশাচেরা। মুহূর্তের মধ্যে জ্ঞান হারায় নাবালিকা। এরপর অপরাধ ঢাকতে তাকে একটি চটের বস্তায় ভরার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় তারা। কিন্তু বস্তাটি ছোট হওয়ায় তা ছিঁড়ে যায়! সেই ছেঁড়া বস্তার ভেতরেই অভাগা মেয়েটির শরীরটাকে চরম নৃশংসতায় দুমড়ে-মুচড়ে জোর করে ঢুকিয়ে দেয় এই নরপশুরা। তারা ভাবতেও পারেনি যে তখনও মেয়েটির শরীরে প্রাণ ছিল!
কবীর মোল্লাকে গ্রেফতারের পর এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য, পুরো ঘটনার পরিকল্পনা কীভাবে হয়েছিল এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা কী ছিল, তা স্পষ্ট করা। পুলিশ জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, মোবাইলের তথ্য এবং ফরেনসিক রিপোর্ট মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় এখনও ক্ষোভে ফুঁসছে রাজ্য। দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ চলছে। এখন সকলের নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে।
