নিউজপোল ব্যুরো: বারুইপুরের ১২ বছরের নিষ্পাপ নাবালিকার সাথে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার যে হাড়হিম করা তথ্য এবার সামনে এল, তা শুনে শুধু বারুইপুর নয়, থরথর করে কাঁপছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এমন এক ক লঙ্কিত অধ্যায়, যা সভ্য সমাজকে লজ্জায় ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। রিপোর্ট বলছে, মেয়েটির ওপর শুধু পাশবিক গণধর্ষণই চালানো হয়নি, বরং চরম অত্যাচারের পর যখন সে আধমরা, তখন তাকে জীবন্ত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে জলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল!
তদন্তে জানা গেছে, এই নারকীয় ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড প্রভাস মণ্ডল মেয়েটিকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে পুকুর লাগোয়া একটি পরিত্যক্ত ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে বসেছিল বাকি তিন জল্লাদ—দিবাকর সর্দার, আনন্দ সর্দার এবং কবীর মোল্লা। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ডাম্প করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ওই চারজনই ঝুপড়ির ভেতরে পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ওই একরত্তি শিশুর ওপর।
ধর্ষণের পর মেয়েটি যখন কোনোমতে রক্তাক্ত অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়, তখন তার হাত দুটি পিছমোড়া করে শক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে নরপিশাচেরা। যন্ত্রণায় অবুঝ শিশুটি চিৎকার শুরু করলে, তার মুখ বন্ধ করতে ঘাড়ে সজোরে আঘাত করা হয়। তীব্র মার ও অপমানের চোটে একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নাবালিকা।
এরপরই ঘটে সেই চরম পৈশাচিক ঘটনা, যা শুনলে যেকোনো পাথরের মানুষের চোখেও জল চলে আসবে। কিশোরী অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর অপরাধ ঢাকতে তাকে চটের বস্তায় ভরার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। কিন্তু বস্তাটি ছোট হওয়ায় পুরো শরীরটা ঢুকছিল না, উল্টে বস্তাটি ছিঁড়ে যায়। কিন্তু তাতেও মন গলেনি ওই জল্লাদদের! সেই ছোট, ছেঁড়া বস্তার ভেতরেই ১২ বছরের অভাগা মেয়েটির নরম শরীরটাকে পশুর মতো দুমড়ে-মুচড়ে জোর করে ঠেসে ঢুকিয়ে দেয় তারা। নরপশুরা ভাবতেও পারেনি যে তখনও মেয়েটির বুকে শেষ শ্বাসটুকু ধড়ফড় করছিল! সেই অবস্থাতেই তাকে পুকুরের জলে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হুট করে নয়, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে এলাকায় রেকি করে, নিখুঁত প্ল্যান বানিয়ে এই চরম হাড়হিম করা কাণ্ড ঘটিয়েছে এই নরপিশাচের বাহিনী!
