তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ১৫০ কোটির রহস্যময় লেনদেন! ‘কপ্টার-কেলেঙ্কারি’ ফাঁস হতেই কাঁপছে দলের মহরথীরা!”

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: শাসক দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ভেতর ঠিক কী চলছিল? কোথা থেকে আসছিল কোটি কোটি টাকা, আর কোথায়ই বা যাচ্ছিল? তৃণমূলের তহবিলের খোঁজে নেমে এবার এমনই এক হাড়হিম করা ও নজিরবিহীন দুর্নীতির খনি আবিষ্কার করল (ED)! কলকাতার ৪টি হাইপ্রোফাইল এলাকায়  তল্লাশি চালিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে এসেছে এমন কিছু নথি, যা দেখে তদন্তকারীদের মাথায় হাত। ইডির রাডারে এখন রয়েছে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চরম সন্দেহজনক লেনদেন!

ইডি সূত্রের দাবি, শিক্ষক নিয়োগ, রেশন ও আবাসের দুর্নীতির কালো টাকা সুকৌশলে সাদা করতে এক কাল্পনিক ফন্দি এঁটেছিল শাসকদলের এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পাণ্ডারা। তদন্তে উঠে এসেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দিষ্ট কিছু গোপন ফান্ড ও বেনামি অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা কোটি কোটি টাকা ব্যবহার করে প্রথমে একটি আস্ত বিলাসবহুল প্রাইভেট বিমান বা চার্টার্ড এয়ারক্রাফট কেনা হয়েছিল! ইডির নজরের নিচে এখন রয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামক কলকাতার একটি সংস্থা। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা গেছে— তৃণমূলের নিজস্ব তহবিল বা অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা সরানো হয়েছিল এই বিমান সংস্থার অ্যাকাউন্টে। আর সেই টাকা দিয়েই কেনা হয়েছিল দামি দামি হেলিকপ্টার ও চার্টার্ড বিমান! চমকের এখানেই শেষ নয়; নিজেদের টাকা দিয়ে কেনা সেই কপ্টার ও বিমানগুলোকেই আবার চড়া দামে ভাড়া নেওয়া হতো তৃণমূলের ভোট প্রচার ও যাতায়াতের কাজের জন্য! অর্থাৎ, দলের টাকা ঘুরপথে সাদা করার এক মাস্টারপ্ল্যান কাজ করছিল পর্দার আড়ালে।

আদালতের এজলাসে আজ কেন্দ্রীয় এজেন্সির দুঁদে আইনজীবীরা যখন এই ১৫০ কোটি টাকার বিমান কেলেঙ্কারির গোপন ডায়েরি ও ব্যাংক ট্রানজ্যাকশনের নথি বিচারপতির টেবিলে পেশ করেন, তখন রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারপতিও। বিচারপতি অত্যন্ত গম্ভীর গলায় জানতে চান, “লুটের টাকায় কেনা বিমানে চেপে কোন কোন প্রভাবশালী নেতা আকাশপথে পাড়ি দিচ্ছিলেন, তাঁদের তালিকা কোথায়?”তদন্তের গতি বাড়িয়ে ইডি ইতিমধ্যেই ওই বিমান সংস্থার মালিক এবং তৃণমূলের ফান্ডের দায়িত্বে থাকা বড় কর্তাদের ব্যাঙ্ক লকার ফ্রিজ করার নোটিশ পাঠিয়েছে। এই ১৫০ কোটির গোলকধাঁধায় এবার কোন বড় নেতার নাম জড়াবে, সেটাই এখন দেখার!