নির্যাতিতার বাবার পাশে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী! অপরাধীদের সোজা ফাঁসির কাঠে ঝোলানোর হুঙ্কার শুভেন্দুর! বারুইপুর কাণ্ডে নবান্ন থেকে বিধ্বংসী বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর!

breakingnews অপরাধ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের পৈশাচিক কাণ্ডে এবার সোজা ময়দানে নেমে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! আজ সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ নবান্নে দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে এক হাড়হিম করা চরম শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মৃত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর শুভেন্দুবাবু অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “এই নৃশংস কাণ্ডে যুক্ত থাকা কোনো অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না। অপরাধীদের সোজা ফাঁসি বা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যা যা সুপারিশ করা দরকার, তার সবটাই করা হবে!” মুখ্যমন্ত্রীর এই বিধ্বংসী বার্তার পর গোটা পুলিশ প্রশাসন জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আজ বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, বারুইপুরের এই পৈশাচিক ঘটনার সাথে শামশেরগঞ্জ ও বেলডাঙার পুরনো দাঙ্গার চক্রান্তের এক গভীর মিল রয়েছে। এমনকি এই ঘটনার পর যে সন্দেহভাজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, সেই গণপিটুনির পেছনে এক সুগভীর ‘সাম্প্রদায়িক’ ইঙ্গিত বা চক্রান্ত ছিল বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই এই কাণ্ডে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ, যাদের ফোনের কল ডিটেইলস ঘেঁটে পলাতক দুই আসামির সাথে সরাসরি যোগাযোগের অকাট্য তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। আইজি-র (IG) নেতৃত্বে পুলিশ ও সিট (SIT) রাতভর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। এই ঘটনায় মোট ৪টি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “নিখোঁজ ডায়েরি বা মিসিং ডায়েরি হওয়ার পর যদি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কোনো কর্মীর সামান্যতম গাফিলতি বা ঢিলেমি ধরা পড়ে, তবে তদন্তের পর সেই পুলিশ কর্মীকে সোজা সাসপেন্ড করে দরজা দেখিয়ে দেব!” আগামীকাল নিজেই বারুইপুরে মৃতা কিশোরীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্যাতিতার অসহায় বাবা ইনসাফ পাওয়ার জন্য যা যা চাইবেন, রাজ্য সরকার সাধ্য অনুযায়ী তার সবটাই দেবে। অপরাধীদের যমদুয়ারে পাঠাতে আর গাফিলতি করা পুলিশ অফিসারদের চাকরি কাড়তে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে অনড় অবস্থান নিয়েছেন— আগামী কয়েকদিনেই স্পষ্ট হবে, বারুইপুর কাণ্ডে প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান কতটা বাস্তব রূপ পায়। দোষীদের শাস্তি এবং গাফিলতির অভিযোগে ব্যবস্থা— এখন এই দুই প্রশ্নের উত্তরেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।