নৃশংস অত্যাচারের পর জ্যান্ত অবস্থাতেই পুকুরের ঠান্ডা জলে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল ১১ বছরের সেই ছোট্ট নাবালিকাকে ! বারুইপুর গণধর্ষণ ও খুনের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হাড়হিম করা সত্য!

breakingnews অপরাধ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: শনিবারের সেই অভিশপ্ত রাতে চারদিকে যখন নিখোঁজ এগারো বছরের মেয়েটিকে যখন খোঁজাখুঁজি চলছে, সে তখনও নরপিশাচদের দেওয়া তীব্র নরকযন্ত্রণার মাঝে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল! বারুইপুরের ষষ্ঠ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসতেই ফেটে পড়েছে গোটা এলাকা।

নরপিশাচরা প্রথমে তাকে অপহরণ করে তার নিষ্পাপ শরীরে চালায় নৃশংস অত্যাচার। কামড়, আঁচড় আর ধর্ষণের সেই নারকীয় উল্লাসের পর ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় থেঁতলে দেওয়া হয়, কিংবা দেওয়ালে সজোরে ঠুকে দেওয়া হয় মাথা। আঘাতে বালিকাটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তারা ভেবেছিল মেয়েটি মরে গেছে। রক্তমাখা সেই দেহ প্রমাণ লোপাটের জন্য তড়িঘড়ি বস্তায় ভরে পুকুরের কালো জলে ছুঁড়ে ফেলা হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তের হাড়হিম করা ‘অ্যান্টিমর্টেম ড্রাউনিং’-এর রিপোর্ট বলছে, জলের তলায় ডুবে যাওয়ার সময়েও মেয়েটির দেহে প্রাণ ছিল, সচল ছিল ফুসফুস! মাথায় গভীর ক্ষত থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ আর ফুসফুস-পাকস্থলীতে পুকুরের জল ঢুকে গিয়ে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে জলের নিচেই শেষ হয়ে যায় তার শ্বাস।

ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ যদি সেই রাতে আর একটু তৎপর হতো, তবে হয়তো মেয়েটিকে জীবিত উদ্ধার করা যেত। ধৃত প্রভাসের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মূল অপরাধী আনন্দ সর্দার পা দিয়ে বালিকাটির গলা চেপে ধরার পরেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। ঘটনার পর আনন্দ এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে কুত্তার মতো পালিয়ে বেড়ালেও পকেটে টাকা না থাকায় এবং পরিচিতরা কেউ আশ্রয় না দেওয়ায় শেষমেশ বারুইপুরের কাছেই ধরা পড়ে। আনন্দ ছাড়াও প্রভাস ও দিবাকর সর্দারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ১৪ দিনের হেফাজতে নিয়েছে, তবে প্রবীর নামে আরেকজন এখনও ফেরার। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিৎ আসলেই দোষী ছিল কিনা, তা নিয়ে এখনও রহস্য কাটেনি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন দুঁদে আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই। রাতভর থানায় বসে পুরোনো সোর্স ও পোড়খাওয়া অফিসারদের ফিরিয়ে এনে তিনি অপরাধীদের জালে তোলেন। আজ মঙ্গলবার মূল অভিযুক্ত আনন্দকে আদালতে তোলা হবে তখন সে কি মুখ খুলবে? নাকি আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে আসল সত্য? এখন অধীর অপেক্ষায় গোটা বাংলা।