নিউজপোল ব্যুরো: উপনির্বাচনের ভোট শুরু হতেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই একের পর এক অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নন্দীগ্রামে বুথে ভোটারদের বাধা দেওয়া ও হামলার অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। অন্যদিকে রেজিনগরে পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তির পর AJUP প্রধান হুমায়ুন কবীরকে আটক করে পুলিশ। ভোটের দিন সকালেই দুই কেন্দ্রের পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়িয়ায় ভোটারদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিভিন্ন বুথে ভোট দিতে যাওয়ার সময় তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর কাছে ভোটাররা নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন বলে দাবি কংগ্রেসের। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে এবং অন্য পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু ভোটের দিন সকালেই নয়, আগের রাত থেকেই নন্দীগ্রামের কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনার অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেসের দাবি, রাতে বাইক বাহিনীর আনাগোনা ছিল এবং কয়েকটি বুথে দলের এজেন্টদের বাধা দেওয়া হয়েছে। মিলন প্রধানকে ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগও উঠেছে। কংগ্রেসের তরফে রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে চলছে বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ বিভিন্ন বুথে গিয়ে ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। পরে রেয়াপাড়া কালীবাড়িতে গিয়ে পুজোও দেন বলে জানা গিয়েছে। ভোট দিয়ে বেরোনোর পর AJUP প্রধান হুমায়ুন কবীর নিজের দলের কার্যালয়ে যান। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পুলিশকে ভোটপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেন তিনি। এরপর পরিস্থিতি ধস্তাধস্তিতে গড়ায় এবং পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তুলে রেজিনগর থানায় নিয়ে যায়। একাধিক প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আটক/হেফাজতে নেওয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; পুলিশি পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ভোটপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও উত্তেজনা তৈরির অভিযোগের কথা সামনে এসেছে।
হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের নজরও রেজিনগরের দিকে। ভোটের দিন এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উপনির্বাচনের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এখন নজর, বাকি সময় ভোটগ্রহণ কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কমিশন ও প্রশাসনের তরফে অভিযোগগুলির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
