নিউজপোল ব্যুরো: বাংলার অপরাধের ইতিহাসে মঙ্গলবারের এই মাঝরাতের ঘটনা যে একটি বড়সড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে নৃশংস অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় এবার ঘটল এক হাড়হিম করা ও নজিরবিহীন ঘটনা ! উত্তরপ্রদেশের কায়দায় এবার খোদ পশ্চিমবঙ্গেই ঘটে গেল ধর্ষণ ও খুন মামলার প্রথম হাই-ভোল্টেজ এনকাউন্টার। বারুইপুরের সূর্যপুরে ১২ বছরের নিষ্পাপ নাবালিকাকে পৈশাচিক অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে ধরা পড়া সেই মূল নরপশুকে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সোজা যমদুয়ারে পাঠিয়ে দিল পুলিশ।
রাত তখন পৌনে একটা। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আচমকাই হিংস্র হয়ে ওঠে সিসিটিভি ফুটেজে নির্যাতিতার সাথে শেষবার দেখা যাওয়া ওই মূল অভিযুক্ত। সে এক পুলিশকর্মীর কোমর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে সটান এক রাউন্ড গুলিও চালিয়ে দেয় সে! আচমকা এই হামলায় থতমত না খেয়ে, নিজেদের আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গর্জে ওঠে পুলিশের বন্দুকও। পুলিশের ছোড়া গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সেই নরপিশাচ। রক্তাত্ব অবস্থায় তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চমক করা তথ্য হলো, শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার যখন ওই নাবালিকার বস্তাবন্দি লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার হয়, তখন এই খতম হওয়া ধূর্ত অপরাধী নিজেই সাধু সেজে গ্রামবাসীদের সাথে রেললাইনের পাশের পুকুরে দেহ খুঁজতে নেমেছিল!
গতকালই মৃতার পরিবারের সাথে দেখা করে কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের এই চরম অ্যাকশন! অন্যদিকে, এই পাশবিক কাণ্ডে জড়িত থাকা চতুর্থ পলাতক অপরাধীকেও ইতিমধ্যই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পুলিশের ওপর গুলি চালানোর খেসারত যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, বারুইপুরের সূর্যপুরের অন্ধকার রাতে তা হাড়হিম করা বাস্তবতায় বুঝিয়ে দিল প্রশাসন। এই এনকাউন্টার সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে কিছুটা মলম দিলেও, অপরাধীদের মনে যে তীব্র ত্রাসের কাঁপন ধরিয়ে দিল, তা নিশ্চিত। নির্যাতিতা সেই ১২ বছরের নিষ্পাপ শিশুর আত্মা হয়তো আজ কিছুটা শান্তি পেল, কিন্তু আইন আর রাজনীতির অলিন্দে এই এনকাউন্টার নিয়ে আগামী দিনে যে এক বিরাট ঝড় উঠতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য
