সোনা-টাকার পাহাড় আগলে বসে থাকা কে এই টুলু মণ্ডল? যাঁর ডেরায় পা দিতেই উদ্ধার হলো ৫০ কোটির গুপ্তধন

breakingnews অপরাধ রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো:  সাদামাটা একটি বাড়ি। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকা আর সোনার ভাণ্ডার। কিন্তু পুলিশের অভিযানের পর বদলে গেল পুরো ছবি। বীরভূমের মহম্মদবাজারে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনার বার। এই ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে শেখ নাজিমুদ্দিনের নাম।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিপুল টাকা ও সোনার সঙ্গে একটি বড় সিন্ডিকেটের যোগ থাকতে পারে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই সম্পদের বড় অংশ মিনার মণ্ডলের বাড়িতে গচ্ছিত রাখা হয়েছিল। সেই কারণেই টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক বছর আগেও টুলু মণ্ডল সাধারণভাবে পাথর পরিবহনের কাজ করতেন। পরে ধীরে ধীরে পাথর ব্যবসায় নিজের প্রভাব বাড়াতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে তাঁর ব্যবসা, সম্পত্তি এবং এলাকায় প্রভাবও। এরপর থেকেই বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগে বারবার উঠে আসে তাঁর নাম।

তদন্তে জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক মামলা রয়েছে। নিউটাউনে ৫ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাতেও তাঁর নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২০২২ সালে একটি খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। পরে তাঁর আর্থিক লেনদেন নিয়েও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থা তদন্ত চালায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাথর খাদান এলাকায় ট্যাক্স সংগ্রহ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় থেকেই তাঁর প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং জালিয়াতিরও অভিযোগ উঠেছিল। যদিও এসব অভিযোগের চূড়ান্ত বিচার আদালতেই হবে।

পুলিশ সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। এবার কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার পর তদন্তকারীরা তাঁর আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক নথি এবং সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন। মিনার মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় শুধু বীরভূম নয়, গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা কোথা থেকে এল, কার, কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।