৬ মাসে ৬০ হাজার নাবালিকা গর্ভবতী! বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে এবার ‘অল-আউট’ অভিযান, এবার POCSO-তে ‘অল-আউট’ অ্যাকশনের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: নাবালিকা বিয়ে এবং কিশোরী মাতৃত্বের ভয়াবহ পরিসংখ্যান ঘিরে এবার রাজ্যজুড়ে আছড়ে পড়ল প্রকাণ্ড তোলপাড়! সারা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এখন এই দুই ব্যাধিতে এক নম্বরে পৌঁছাতেই চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নের প্রশাসনিক সভাঘর থেকে সরকারি নথি ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামাজিক এই অভিশাপ চিরতরে উপড়ে ফেলতে এবার আর কোনো রকম রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক শিথিলতা দেখানো হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার চরম জামিন অযোগ্য ধারায় সোজা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার।

স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন— মাত্র ছ’মাসে রাজ্যে প্রায় ৬০ হাজার নাবালিকা প্রসূতির প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই আশঙ্কাজনক তালিকায় ১২,৮৪৭ জন কিশোরী প্রসূতিকে সঙ্গে নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪,১৭৮), পূর্ব বর্ধমান (৩,৭৭৭) এবং মালদা (৩,৭৪৩)। বিগত জমানার নজরদারিহীনতা এবং সামাজিক কাঠামোর এই চরম অধঃপতনের ফলে সারা দেশে বাংলার মুখ পুড়েছে বলে কড়া মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ইতিমধ্যেই এই সমস্ত কিশোরীদের স্বামীদের চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এক মাসের মধ্যে বয়সের প্রমাণ দেওয়ার জন্য কারণ দর্শানোর (Show-Cause) নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে। এক মাসের মধ্যে দম্পতিদের যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছর বয়সের আইনি প্রমাণপত্র জমা দিতে না পারলে পদক্ষেপ করবে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানান, “প্রমাণ করতে না পারলে ডিজি সরাসরি আইনি পদক্ষেপ করবেন।” কেবল স্বামী নয়, এই বেআইনি বিয়েতে মদতদাতা পুরোহিত, কাজি এবং বাবামা— কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পকসো আইনের ৪ ও ৬ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন জেল কিংবা প্রাণদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি হতে পারে।

আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধীদের অর্থনৈতিক শিকড় ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা ১৮ বছরের নীচের কাউকে বিয়ে করেছে এবং কিশোরী স্ত্রীর ডেলিভারি হয়েছে, তারা প্রথমে পকসো আইনে জেলে যাবে। পরে তাদের সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধ করে দেব। রাস্তায় গড়াগড়ি খেলেও এক টাকা দেওয়া হবে না।” কোনো ধর্ম, জাতপাত বা রাজনৈতিক রঙ না দেখে নিরপেক্ষভাবে পুলিশ প্রশাসনকে এই চিরুনি অভিযান সফল করার অবাধ ছাড় দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।