ভোটের ১৮ দিন আগে জেল, এবার হাইকোর্টের দরজায় মিলন! পুরোনো ৫ মামলার রক্ষাকবচের খোঁজে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ভোটের মুখে নন্দীগ্রামে ফের বড় আইনি মোড়! জেল হেফাজতে থাকা কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ। ১৯ বছর আগের পাঁচটি মামলায় ফের গ্রেফতারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে আদালতে রক্ষাকবচ চেয়েছেন তিনি। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি ওঠে। আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্যের বক্তব্য শোনার পর মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগেই একের পর এক পুরনো মামলায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী। পুলিশের দাবি, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে কয়েকটিতে দীর্ঘদিন ধরে মিলন প্রধানকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছিল। পুলিশের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির চার্জশিটেও তাঁকে পলাতক উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে নন্দীগ্রামের পুরনো তিনটি মামলায় ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই মামলাগুলির মধ্যে খুন, খুনের চেষ্টা, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন –https://thenewspole.com/2026/09/21/ajup-worker-haidar-sheikh-arrested-humayun-kabir-election-commission-complaint/

২০০৭ সালের ৩০ জুলাইয়ের ওই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৮ ও ১৪৯ ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৫ ও ৩৫ ধারায় অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে মামলার প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।এর পাশাপাশি ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের আরও একটি মামলায় মিলন প্রধানকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করা হয়েছে। ওই মামলায় খুন, খুনের চেষ্টা, অস্ত্র নিয়ে হামলা এবং অস্ত্র আইনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে একদিকে জেল হেফাজত, অন্যদিকে নতুন মামলায় হাজিরা—ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কংগ্রেস প্রার্থীকে ঘিরে আইনি চাপ আরও বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই পাঁচটি পুরনো মামলায় আগাম সুরক্ষা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মিলন প্রধান। তাঁর আইনজীবীর দাবি, একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর আরও পাঁচটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তাই ওই মামলাগুলিতে রক্ষাকবচ চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতের শুনানির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। জেলবন্দি প্রার্থীকে ছাড়াই অবশ্য নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচার থেমে নেই। সামসাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকায় মিলন প্রধানের ছবি সামনে রেখে প্রচারে নামছেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। প্রার্থী জেলে থাকায় তাঁর হয়ে মাঠে প্রচারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা। ফলে ভোটের লড়াইয়ের পাশাপাশি মিলন প্রধানের মামলা ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা রাজনৈতিক আবহ।