নিউজপোল ব্যুরো: ধর্না চলছে থানার সামনে, আর তার মধ্যেই দলের আরও এক কর্মীর গ্রেফতার! মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফের চড়ল উত্তেজনার পারদ। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দলের কর্মী হায়দার শেখকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শক্তিপুর থানার সামনে ধর্না চলাকালীন অভব্য আচরণের অভিযোগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
হায়দার শেখের গ্রেফতারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, একের পর এক দলীয় কর্মীকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই অভিযোগ নিয়েই এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন AJUP প্রধান। গতকাল রাতে ইমেলের মাধ্যমে কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। ঘটনার সূত্রপাত শক্তিপুর থানার সামনে হুমায়ুন কবীরের ধর্নাকে কেন্দ্র করে। পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সেখানে অবস্থানে বসেছিলেন তিনি। সেই সময় থানার সামনে হায়দার শেখের বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে হুমায়ুনের দাবি, রাজনৈতিকভাবে দলীয় কর্মীদের চাপে রাখতেই ধারাবাহিকভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
এর আগে শনিবারও বড়সড় ঘটনা সামনে এসেছিল। আগ্নেয়াস্ত্র ও জাল নোট-সহ গ্রেফতার করা হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রাজ্য সম্পাদক আশিক ইকবাল-সহ দু’জনকে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের দলের আর এক কর্মী গ্রেফতার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। এখানেই শেষ নয়। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় একাধিক গোলমালের ঘটনায় AJUP-এর নওদা ব্লক সভাপতি তথা রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের নির্দল প্রার্থী সাইফুল ইসলাম মণ্ডল ওরফে মদনের নামও গ্রেফতারের ঘটনায় সামনে এসেছিল। আবার পুলিশের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছিল দলের ব্লক নেতা নাসিম শেখকে।
ফলে পরপর কয়েকটি গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে হুমায়ুন কবীরের দল বনাম পুলিশের সংঘাত আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একদিকে উপনির্বাচনের প্রচার ঘিরে উত্তেজনা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের গ্রেফতার—দুই ইস্যুতেই সরব AJUP নেতৃত্ব। পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নওদার বিধায়ক। এমনকী পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচার থেকে সরে থাকার ঘোষণাও করেছিলেন তিনি।
